ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহুল আলোচিত শেনজেন এলাকা, যা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভিসাবিহীন চলাচল নিশ্চিত করে, সেখানে যোগদানের জন্য সাইপ্রাস দীর্ঘদিন ধরেই তৎপর। এবার দেশটির অভিবাসন বিষয়ক উপ-মন্ত্রী নিকোলাস ইয়োয়ানিদেস জানালেন, সাইপ্রাস ২০২৬ সালের মধ্যেই শেনজেনে যোগদানকে লক্ষ্য ধরে এগোচ্ছে এবং ইতোমধ্যেই শেনজেনে অন্তর্ভুক্তির প্রযুক্তিগত সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
ব্রাসেলসে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশনের হোম অ্যাফেয়ার্স ও মাইগ্রেশন কমিশনার ম্যাগনুস ব্রুনারের সঙ্গে বৈঠকের পর উপ-মন্ত্রী জানান যে, সাইপ্রাসের অগ্রগতি কমিশনের কাছে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ইয়োয়ানিদেস বলেন…
সাইপ্রাস টেকনিক্যালি প্রস্তুত। এখন প্রয়োজন কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন এবং ইইউ সদস্য দেশগুলোর রাজনৈতিক সমর্থন।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যেই সব ধরনের টেকনিক্যাল মূল্যায়ন সম্পন্ন হবে, এরপর ২০২৬ সালে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হবে, যার মাধ্যমে সাইপ্রাসের শেনজেনে যুক্ত হওয়ার পথ আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে যাবে।
শেনজেন সদস্যপদের গুরুত্ব
সদস্যপদ পেলে, সাইপ্রাসের নাগরিকরা ইউরোপের ভেতরে ভিসাবিহীন, বাধাহীন চলাচল করতে পারবেন। পর্যটনখাতে বড় ধরনের বুম ঘটবে, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, বাণিজ্য, শিক্ষার্থী আদান–প্রদান এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সহজ হবে।

অনেক বছর ধরেই সাইপ্রাস নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল স্ক্যানিংসহ বিভিন্ন খাতে মান অর্জনের চেষ্টা করছে। কিন্তু ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং অভিবাসী আগমনের চাপের কারণে শেনজেন অনুমোদন দীর্ঘদিন আটকে ছিল।
অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় ইইউ
সাইপ্রাস ২০২৬ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া ছয় মাসের জন্য ইইউ কাউন্সিলের সভাপতিত্ব গ্রহণ করবে। যে সময়ে ইইউ-এর নতুন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন ও আশ্রয় নীতি (মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট) বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার কথা। এই প্যাক্টটি শরণার্থী বণ্টন ও সংহতি ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক কাঠামোয় আনছে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করছে, আশ্রয়প্রার্থীদের দ্রুত স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করছে এবং অবৈধ প্রবেশ হ্রাসে কঠোর যৌথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে।
ইয়োয়ানিদেস বলেন…
২০১৫ সালের মতো অরাজক পরিস্থিতি আবার হতে দেওয়া যাবে না। অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় যৌথ ইউরোপীয় নীতি ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
ইইউ অভ্যন্তরে মতপার্থক্য ও সাইপ্রাসের ভূমিকা
বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে যে তারা নতুন প্যাক্টের সংহতি ব্যবস্থা, বিশেষত শরণার্থী পুনর্বণ্টন সম্পূর্ণভাবে মানবে না। এসব দেশকে বোঝাতে সাইপ্রাস দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শুরু করেছে। ইয়োয়ানিদেস বলেন…
সাইপ্রাসের সভাপতিত্বের সময় আমাদের মূল লক্ষ্য হবে সমঝোতা তৈরি করা। নীতি বাস্তবায়নে ঐক্য ছাড়া কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না।
কেন সাইপ্রাস শেনজেনে এখনও নেই?

সাইপ্রাস ২০০৪ সালে ইইউতে যোগ দেয়, ২০১৬ সালে শেনজেনের সব টেকনিক্যাল শর্ত পূরণের ঘোষণা দেয় দেশটি কিন্তু তুর্কি-অধিকৃত উত্তর সাইপ্রাস ইস্যু, অভিবাসী আগমন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ভৌগোলিক জটিলতা,
এসব কারণে শেনজেন সদস্য দেশগুলো রাজনৈতিক অনুমোদন দিতে দ্বিধায় ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাইপ্রাস অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে এবং সাইপ্রাস-ইউরোপ রুটে অবৈধ নৌযাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সাইপ্রাসের লক্ষ্য ২০২৬ সাল
সাইপ্রাসের সামনে ২০২৬ সালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ-শেনজেন সদস্যপদ নিশ্চিত করা, ইইউ কাউন্সিলের সভাপতিত্ব সফলভাবে পালন করা। উভয় লক্ষ্যই ইউরোপে সাইপ্রাসের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।
সার্বিক চিত্র
সাইপ্রাস এখন এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে যেখানে, প্রযুক্তিগতভাবে প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ, অভিবাসন নীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে, ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক এবং ইইউ সভাপতিত্বকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ের সুযোগ তৈরি। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, ২০২৬ সালেই সাইপ্রাস ইউরোপের মুক্ত চলাচলের অভিন্ন শেনজেন জোনে প্রবেশ করতে পারে, যা দেশটির অর্থনীতি, কৌশল এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করবে।


