ডেনমার্ক সরকার ঘোষণা করেছে, গুরুতর অপরাধে অন্তত এক বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিপোর্ট বা বহিষ্কার করা হবে। শুক্রবার অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করতে নতুন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। ডেনমার্কের অভিবাসন মন্ত্রণালয় বলেছে, নতুন নীতির আওতায় গুরুতর সহিংসতা, ধর্ষণ ও অন্যান্য মারাত্মক অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ডিপোর্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে।
আগে ডেনমার্কে বিদেশি অপরাধীদের বহিষ্কার সব ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় ছিল না। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং মানবাধিকারের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে অনেক সময় ডিপোর্টেশন স্থগিত রাখা হতো। ডেনমার্ক সরকার বলছে, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো, জননিরাপত্তা জোরদার করা, অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করা ও গুরুতর অপরাধী বিদেশিদের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থায় ফেরত পাঠানো। সরকার স্পষ্ট করেছে, নতুন ব্যবস্থায় আলাদা বিচার-বিশ্লেষণ বা অনুমোদনের অপেক্ষা ছাড়াই কার্যক্রম শুরু হবে।
তবে মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলছে, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান বজায় রাখা জরুরি, স্বয়ংক্রিয় ডিপোর্টেশন নীতি কখনো কখনো পারিবারিক ও সামাজিক প্রভাব বিস্তৃত করতে পারে এবং বিশেষ করে শিশু ও পরিবারকে কেন্দ্র করে মানবিক দিক বিবেচনায় রাখা উচিত।
এএফপি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ডেনমার্কের এই পদক্ষেপ ইউরোপের অন্যান্য দেশে অভিবাসন ও নিরাপত্তা নীতি কঠোর করার চলমান প্রবণতার অংশ। ডেনমার্কে কঠোর অভিবাসন নীতির প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালে আশ্রয় অনুমোদনের সংখ্যা ইতিহাসের সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৮৩৫টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছে, এর মধ্যে অর্ধেকেরও কম আবেদন অনুমোদন পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কঠোর নীতি ও স্বয়ংক্রিয় ডিপোর্টেশন অভিবাসীদের জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, তবে এটি সরকারের জননিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কঠোর নীতি ও স্বয়ংক্রিয় ডিপোর্টেশন নীতি পরিবারের বিচ্ছিন্নতা ঘটাতে পারে।শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি, স্থানীয় কমিউনিটি লিডাররা সরকার ও দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ডেনমার্কের পদক্ষেপ ইউরোপের কঠোর অভিবাসন নীতি–এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অনেক দেশ অবৈধ বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত বিদেশিদের দ্রুত বহিষ্কারের নীতি গ্রহণ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেনমার্কের উদাহরণ অন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্যও রোল মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে, তবে মানবাধিকার ও পারিবারিক প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া অপরিহার্য।
ডেনমার্কের নতুন নীতি, গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত বিদেশিদের স্বয়ংক্রিয় ডিপোর্টেশন ও জননিরাপত্তা জোরদার করতে এবং অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এটি মানবিক ও সামাজিক প্রভাব এড়িয়ে চলতে পারবে কি না, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের নজরে থাকবে।


