শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক বা ফরমাল শিক্ষা শুরু করার আদর্শ বয়স নিয়ে এক বৈপ্লবিক মন্তব্য করেছেন এস্তোনিয়ার শিক্ষামন্ত্রী। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, শিশুদের ৭ বছর বয়সের আগে স্কুলে পাঠানো উচিত নয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষা মহলে এই বক্তব্য ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, কারণ এস্তোনিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সফল ও কার্যকর মডেল হিসেবে স্বীকৃত।
এস্তোনিয়ার শিক্ষামন্ত্রীর মতে, খুব অল্প বয়সে শিশুদের ওপর বইয়ের বোঝা বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চাপিয়ে দেওয়া তাদের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। ৭ বছর বয়সের আগে শিশুদের মূলত খেলাধুলা, সামাজিক মেলামেশা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখার সুযোগ দেওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, ৫-৬ বছর বয়সে শিশুদের মস্তিষ্ক একাডেমিক জটিলতা গ্রহণের চেয়ে সৃজনশীল কার্যক্রমের জন্য বেশি প্রস্তুত থাকে। অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ এই কোমলমতি শিশুদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগ বা ‘অ্যাংজাইটি’ তৈরি করতে পারে।
শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ৭ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর শিশুদের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা এবং নিয়মতান্ত্রিক শিক্ষা গ্রহণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কিছুটা দেরিতে কিন্তু মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে শিক্ষা শুরু করে, তারা দ্রুত শিখতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে একাডেমিক ফলাফলে অন্যদের চেয়ে ভালো করে। এস্তোনিয়ার সফল শিক্ষা ব্যবস্থায় সবসময়ই শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়, যার প্রতিফলন আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন পরীক্ষাগুলোতেও (যেমন- PISA) দেখা যায়।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ‘আর্লি স্কুলিং’ বা দ্রুত স্কুলে পাঠানোর প্রবণতা কমানোর বিষয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শৈশব হলো শিশুর শারীরিক ও মানসিক ভিত্তি গড়ার সময়। তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়ে খেলাধুলাভিত্তিক শিক্ষা শিশুদের কগনিটিভ ও সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে বেশি কার্যকর। এস্তোনিয়ার এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করলে ভবিষ্যতে বিশ্বের অনেক দেশেই প্রাথমিক শিক্ষা নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, যেখানে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশই হবে মূল লক্ষ্য।


