২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১.৫ শতাংশ, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় কিছুটা আশাব্যঞ্জক। তবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রবৃদ্ধির হারে লক্ষ্যণীয় পার্থক্য দেখা গেছে। তালিকায় সবচাইতে উপরে রয়েছে আয়ারল্যান্ড, যাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে রেকর্ড ১২.৩ শতাংশ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবৃদ্ধি দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির চেয়ে সেখানে অবস্থিত মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ওপর বেশি নির্ভরশীল। আয়ারল্যান্ড ছাড়াও মাল্টা (৪%), সাইপ্রাস (৩.৮%) এবং উত্তর ম্যাসেডোনিয়া (৩.৫%) উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ইউনিভার্সিটি অফ এক্সেটারের বিশেষজ্ঞ মিগুয়েল লিয়ন-লেডেসমা মনে করেন, উন্নয়নশীল দেশগুলো দ্রুত প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় দ্রুত বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
ইউরোপের প্রধান চারটি অর্থনীতির মধ্যে স্পেনের অবস্থান সবচাইতে সন্তোষজনক। পর্যটন খাতের সাফল্য এবং উদার অভিবাসন নীতির ওপর ভর করে স্পেন ২.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। অন্যদিকে, ইউরোপের এক সময়ের অর্থনৈতিক ‘পাওয়ার হাউস’ জার্মানি এখন তালিকার তলানিতে। বিশ্ববাজারে চীনা রপ্তানির তীব্র বৃদ্ধি বা ‘সেকেন্ড চায়না শক’-এর কারণে জার্মানির রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ০.২ শতাংশ। এছাড়া ফ্রান্স ০.৮ শতাংশ এবং ইতালি ০.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। নর্ডিক দেশগুলোর মধ্যে ডেনমার্ক ২.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও ফিনল্যান্ড জার্মানির মতোই মাত্র ০.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ধুঁকছে।
তবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি মানেই যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ছে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্রুগেলের সিনিয়র ফেলো জ্যাকব ফাঙ্ক কির্কিগার্ডের মতে, স্পেনের মতো দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মোট জিডিপি বাড়লেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে মানুষের আয় বা মজুরি স্থির থাকতে পারে। ওআইসিডি এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালেও স্পেনের অর্থনীতি ২.২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়ে যুক্তরাজ্যের তুলনায় অনেক এগিয়ে থাকবে। সামগ্রিকভাবে, ২০২৫ সালের এই তথ্যগুলো ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে এক ধরনের অর্থনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


