ইউরোপজুড়ে আগামীকাল থেকে পবিত্র মাহে রমজান শুরু হচ্ছে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব ও বিভিন্ন ইসলামিক সংস্থার পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ইউরোপের বেশিরভাগ দেশে বুধবার থেকে রোজা পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার তারাবির নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে এবং প্রবাসী মুসলমানদের মধ্যে রমজানকে ঘিরে ধর্মীয় আবহ তৈরি হয়েছে।
ইউরোপের যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল নেদারল্যান্ডস ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর অনেক ইসলামিক সংগঠন চাঁদের জন্মের হিসাবের ভিত্তিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম রোজা হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে কিছু কমিউনিটিতে রোজা শুরুর তারিখ একদিন পিছিয়েও যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।
রমজানকে সামনে রেখে বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষ করেছেন। মসজিদগুলোতে ইফতার মাহফিল, কুরআন তিলাওয়াত ও দারসের আয়োজন করা হয়েছে। অনেক ইসলামিক সেন্টারে প্রবাসী মুসলমানদের জন্য সম্মিলিত ইফতারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যা প্রবাসে ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইউরোপে রোজার সময়সীমা তুলনামূলক দীর্ঘ হওয়ায় মুসল্লিদের মধ্যে বিশেষ প্রস্তুতি লক্ষ্য করা গেছে। উত্তর ইউরোপের দেশগুলোতে সেহরি ও ইফতারের সময়ের ব্যবধান ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। এ কারণে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও কর্মব্যস্ততার সঙ্গে রোজা পালনের বিষয়ে বিভিন্ন মসজিদ থেকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে সাধারণত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একদিন পরে রোজা শুরু হয়। ফলে বাংলাদেশে রমজান শুরুর তারিখ ইউরোপের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। রমজান উপলক্ষে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা ও ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসনও প্রস্তুতি নিয়েছে।


