গ্রিস অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে নতুন নীতির ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির অভিবাসন ও আশ্রয় বিষয়ক মন্ত্রী থানোস প্লেভরিস জানিয়েছেন, আটককেন্দ্রে থাকা কোনো অভিবাসী যদি অপরাধ–সংক্রান্ত কাজে জড়িত হন, তাহলে তাকে দ্রুততর প্রক্রিয়ায় বহিষ্কার বা নিজ দেশে পাঠানো হবে। সস্প্রতি উত্তর গ্রিসে এক অভিবাসী আটককেন্দ্রে দাঙ্গা পরিস্থিতির পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
গ্রিসের সেরেস অঞ্চলের সিন্তিকির ক্লেইদি এলাকার আটককেন্দ্রে বুধবার রাতে বিক্ষোভ শুরু হলে তা দ্রুত দাঙ্গায় রূপ নেয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেন্দ্রে তখন অন্তত ৭৫০ জন অভিবাসী ছিল। সংঘর্ষে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন, একজন পাথরের আঘাতে, আরেকজনের হাতে কামড়ের চিহ্ন পাওয়া যায়। এ সময় পুলিশ ৩০ জন অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দাঙ্গায় অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্স-এ দেওয়া বিবৃতিতে প্লেভরিস বলেন…
যাদের শরণার্থী প্রোফাইল নেই, তাদের জন্য, দ্রুত আশ্রয় আবেদন যাচাই, প্রত্যাখ্যান এবং বহিষ্কার প্রক্রিয়া সহজ। তারা ততক্ষণ পর্যন্ত আটক থাকবে, অবৈধ অভিবাসনে কোনো ছাড় নেই।
তিনি আরও উল্লেখ করে বলেন, নতুন আইনের নিয়ম কঠোর হওয়ায় অনেক অভিবাসী প্রতিবাদে নামছেন।
চলতি গ্রীষ্মে গ্রিস, ইউরোপের অন্যতম কঠোর অভিবাসন আইন চালু করে। এত রয়েছে, অনিয়মিত অভিবাসীকে সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত আটক রাখার সুযোগ, গ্রিক ভূখণ্ডে অবৈধ প্রবেশ বা অবস্থানের জন্য ২ থেকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং যাদের আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হয়েছে, তাদের জন্যও কারাদণ্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসব আইনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও গ্রিস বলছে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে মানবপাচার ও অবৈধ প্রবেশ বেড়ে যাওয়ায় আইন কঠোর করা প্রয়োজন হয়।
ঘটনার মাত্র এক দিন আগেই ক্রিট দ্বীপের দক্ষিণে গাভদোস উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে যায়। এ ঘচটনায় নিহত হন ৩ জন, ৫৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সম্প্রতি সুদানের দু’জন নাগরিককে মানবপাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রিস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লিবিয়া হয়ে নৌকায় ক্রিটে আগমন উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তাদের নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করছে।
গ্রিসের মতে, এজিয়ান সাগর ও ভূমধ্যসাগর হয়ে অনিয়মিত অভিবাসী প্রবেশ দেশটির সামাজিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মানবপাচার চক্র ধ্বংস করা, প্রত্যাখ্যাত আশ্রয় আবেদনকারীদের দ্রুত বহিষ্কার, সীমান্তে নৌ টহল বৃদ্ধি, এসবই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ।
গ্রিসের পাশাপাশি ইতালি, স্পেন, সাইপ্রাস ও মাল্টাও অনিয়মিত অভিবাসন দমনে নতুন নিয়ম জারি করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নও সম্প্রতি অভিবাসন ও আশ্রয় সংক্রান্ত চুক্তি নীতির অধীনে আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুততর করা ও সীমান্ত আটক বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।


