অবৈধ অভিবাসন সমস্যা মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইতালি। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি থেকে জুলাই) দেশটি থেকে ৩ হাজার ৪৬৩ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন ‘দসিয়ের ভিমিনালে’-এর বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য জানিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ফেরত পাঠানো ৩ হাজার ৪৬৩ জন অভিবাসীকে বিমানযোগে জোরপূর্বক তাদের নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে। এই সংখ্যা অনুযায়ী, চলতি বছর প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪৯৫ জনকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
২০২২ সালের অক্টোবরে বর্তমান জোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই অবৈধ অভিবাসন রোধে এবং মানব পাচারকারীদের চক্র ভাঙতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় এ বছর ফেরত পাঠানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এর আগে ইতালির শীর্ষস্থানীয় সংবাদ সংস্থা আনসা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানায় যে, ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১৪ মাসে মোট ২১ হাজার ৮৬৯ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৫৯২ জনকে জোরপূর্বক এবং বাকি ১৩ হাজার ২৭১ জন স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেছেন।
ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের মধ্যে একটি বড় অংশ তিউনিসিয়া, মিশর, মরক্কো, আলবেনিয়া এবং নাইজেরিয়ার নাগরিক।
সরকারের বক্তব্য
অভিবাসন বিষয়ে সরকারের এই কঠোর নীতিকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি। তিনি বলেন…
যারা আমাদের দেশে থাকার নিয়ম মানে না, তাদের বিতাড়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হবে। একইসাথে আমরা মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধেও আমাদের লড়াই জোরদার করেছি।
মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি
সরকারের এই পদক্ষেপকে ইতালির অনেক নাগরিক সমর্থন করলেও অভিবাসী অধিকার সংস্থাগুলো এর সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর এসব ঘটনায় অভিবাসীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি থাকে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে, সকল প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক আইন মেনেই সম্পন্ন করা হচ্ছে।


