ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে গত শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক যৌথ অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এখন ইউরোপ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডাররা নিহত হওয়ার ঘটনায় ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইউরোপীয় দেশ সাইপ্রাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং দেশটিতে ইসরায়েলের বিপুল সম্পদ ও স্থাপনা থাকায় সাইপ্রাসকে ‘ইসরায়েলের গুদামঘর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা মূলত দেশটির ওপর ইরানের এই হামলার প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের এই পদক্ষেপের পর ইউরোপীয় শক্তিগুলোও এখন সরাসরি সংঘাতের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, ইরানের মিসাইল ব্যবস্থায় হামলা চালাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। এর পাশাপাশি ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য এক যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, প্রয়োজন পড়লে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের প্রতিরক্ষামূলক সামরিক ব্যবস্থা নিতে তারা প্রস্তুত। ফ্রান্সের পক্ষ থেকে খামেনি হত্যাকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশের পর এই তিন দেশের অবস্থান ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাইপ্রাসে হামলার মধ্য দিয়ে ইরান কার্যত ইউরোপের দোরগোড়ায় যুদ্ধকে নিয়ে এসেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা, অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা ইরানকে এক ভয়াবহ সামরিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। যদিও পশ্চিমা মিত্রদের দাবি—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শক্তি ধ্বংস করতে পারলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তবে বর্তমান পরিস্থিতি একটি পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করছে। ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের এই কঠোর অবস্থান প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় তারা যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।


