ইউরোপের আকাশে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে পবিত্র মাহে রমজান শুরু হচ্ছে। ইউরোপের ফতোয়া নির্ধারণকারী সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৬ সালে ইউরোপে প্রথম রোজা ১৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু।বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চাঁদ দেখার পার্থক্যের কারণে কোথাও একদিন আগে বা পরে রমজান শুরু হলেও ইউরোপের অধিকাংশ দেশ এবার একই দিনে রোজা শুরু করতে যাচ্ছে।
দীর্ঘ দিন-রাতের চ্যালেঞ্জ
ইউরোপে রমজানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো রোজার সময়ের বিশাল পার্থক্য। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে একই দিনে এক দেশে ১৪ ঘণ্টা, অন্য দেশে প্রায় ১৬ ঘণ্টা বা তারও বেশি রোজা রাখতে হয়।সম্ভাব্য রোজার সময় (গড় হিসেবে),লন্ডনে ১৪-১৫ ঘণ্টা, প্যারিসে ১৪-১৫ ঘণ্টা, রোমে ১৪-১৬ ঘণ্টা, বার্লিনে প্রায় ১৫ ঘণ্টা এবংহেলসিঙ্কিতে ১৫ ঘণ্টারও বেশি।উত্তর ইউরোপের দিকে গেলে সময় আরও বাড়ে, কারণ সেখানে সূর্যাস্ত দেরিতে হয়।
মুসলিম জনসংখ্যা ও সামাজিক বাস্তবতা
ইউরোপে বর্তমানে ৪-৫ কোটির মতো মুসলিম বসবাস করে (বিভিন্ন গবেষণা অনুমান)। ফলে রমজান এখন আর কেবল ধর্মীয় আচার নয়, এটি ইউরোপের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার অংশ। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইতালি ও স্পেনে সবচেয়ে বেশি মুসলিম সম্প্রদায় রয়েছে। রমজান উপলক্ষে এসব দেশে, মসজিদে তারাবিহ জামাত, কমিউনিটি ইফতার, আন্তধর্মীয় সংলাপ ও দাতব্য কার্যক্রম বাড়ে কয়েকগুণ।
ইউরোপীয় শহরে রমজান সংস্কৃতি
রমজানে ইউরোপের বহু শহরের জীবনযাত্রা বদলে যায়, লন্ডন, প্যারিস, বার্লিনে মধ্যরাত পর্যন্ত হালাল রেস্টুরেন্ট খোলা থাকে। চার্চ, সিনাগগ ও নাগরিক সংগঠনগুলো মুসলিমদের সঙ্গে যৌথ ইফতার আয়োজন করে, ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। অনেক অফিসে নমনীয় সময়সূচি, স্কুলে পরীক্ষার সময় পরিবর্তন, খেলাধুলায় বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়।
শীতকালীন রমজান
এই বছর রমজান ফেব্রুয়ারিতে পড়ায় ইউরোপের মুসলিমরা তুলনামূলক স্বস্তিতে থাকবে। কারণ গ্রীষ্মের তুলনায় দিন ছোট, রোজা কম দীর্ঘ হবে। রমজান প্রতি বছর ১০-১১ দিন আগে আসে, তাই কয়েক বছরের মধ্যে আবার গ্রীষ্মে গিয়ে ১৮-২০ ঘণ্টা রোজার কঠিন সময় ফিরে আসবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রস্তুতি
ইউরোপে বসবাসরত বাংলাদেশিরা সাধারণত কমিউনিটি ইফতার, মসজিদকেন্দ্রিক কোরআন খতম, সেহরি ও ইফতার বাজার ও ঈদ মেলা আয়োজন করে থাকেন। বিশেষ করে লন্ডন, রোম, মিলান ও প্যারিসে বাংলা বাজারগুলোতে রমজানের আলাদা আমেজ তৈরি হয়।
আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে সামাজিক বার্তা
রমজান এখন ইউরোপে শুধু ধর্মীয় মাস নয়, এটি পরিচয়, সহনশীলতা ও সহাবস্থানের প্রতীক। ইসলামোফোবিয়ার আলোচনার মাঝেও এই মাসে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ে, যা সামাজিক সংহতি জোরদার করে।
সার-কথা
ইউরোপে রমজান মানে, দীর্ঘ রোজা ও প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জ, বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সহাবস্থান ও ধর্মীয় চর্চার পাশাপাশি সামাজিক সংহতি। ভৌগোলিক পার্থক্য যতই থাকুক, আধ্যাত্মিকতার এই মাসে ইউরোপজুড়ে মুসলিমদের একই অনুভূতি, সংযম, সহমর্মিতা ও মানবতার বার্তা।


