মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার হুমকির মুখে নতি স্বীকার না করার ঘোষণা দিয়েছে স্পেন। তেহরানে সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ দেশটির সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর এই উত্তেজনা চরম রূপ নেয়। স্পেনের এই সাহসী অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
ইউরোপীয় কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা কোনো অগ্রহণযোগ্য হুমকিতে ভীত হব না। পেড্রো সানচেজ এবং স্পেনের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন, বহুপাক্ষিকতা এবং ইউরোপের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে দাঁড়ানো আমাদের যৌথ দায়িত্ব এবং আমরা এই অবস্থানে অটল থাকব।” বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ইরান সরকারের অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নের নিন্দা জানালেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার মৌলিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এই পররাষ্ট্রনীতিকে তার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। মাদ্রিদভিত্তিক বিশেষজ্ঞ আরতেগা’র মতে, মার্কিন ঘাঁটির ওপর এই নিষেধাজ্ঞা সানচেজের সোশ্যালিস্ট পার্টির বামপন্থী ভোটারদের সমর্থন সুসংহত করতে সাহায্য করবে, যারা ঐতিহাসিকভাবেই মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরোধী। বিশেষ করে গত আঞ্চলিক নির্বাচনে পরাজয় এবং দুর্নীতির তদন্তের চাপে থাকা সরকারের জন্য এটি একটি রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এই অবস্থান নিয়ে স্পেনের অভ্যন্তরেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দল ‘পপুলার পার্টি’ সানচেজকে “বিচ্ছিন্নতাবাদী” আখ্যা দিয়ে বলেছে, যখন হামাস বা হুতিরা স্পেনের প্রশংসা করে, তখন বুঝতে হবে দেশের পররাষ্ট্রনীতি ভুল পথে চলছে। অন্যদিকে, জোট সরকারের শরিক বামপন্থী দলগুলো ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলছে।
ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, ফ্রান্স বা ব্রিটেনের মতো বড় দেশগুলোর সাথে তাল না মিলিয়ে স্পেনের এই একক অবস্থান দেশটিকে আন্তর্জাতিকভাবে কিছুটা বিচ্ছিন্ন করার ঝুঁকি তৈরি করলেও, আপাতত ইইউ-এর পূর্ণ সমর্থন সানচেজের হাতকে শক্তিশালী করছে। আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প বনাম সানচেজের এই লড়াই স্পেনের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


