ইউরোপের শীতল মৌসুমে, বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস-সহ অনেক অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা হিমাঙ্ক বা তার কাছাকাছি নামছে। এতে রাস্তায় থাকা গৃহহীন, শরণার্থী বা অভিবাসীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৪–২০২৫ শীতে, ব্রাসেলসের গৃহহীন জনসংখ্যা প্রায় ১০ হাজার-এ পৌঁছেছে, যা সম্প্রতি দুই বছরে প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে অনেকে হলেন যাঁরা আন্তর্জাতিক সুরক্ষার (asylum) জন্য আবেদন করেছেন, কিন্তু আশ্রয় কেন্দ্রের অভাবে রাস্তার ওপর ঘুমাতে বাধ্য হয়েছেন।
শীতের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি হিসেবে, ব্রাসেলস প্রশাসন ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে “ব্রাসেলস সহায়তা কেন্দ্র” (যারা গৃহহীন মানুষদের জরুরি আশ্রয়, পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য কাজ করে)- Bruss’help এবং অন্যান্য সামাজিক সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে চালু করেছে “চরম শীত মোকাবিলা পরিকল্পনা”(Extreme Cold Plan) -যেখানে অতিরিক্ত ১৬০টি জরুরি আশ্রয়স্থান চালু করা হয়েছে, যা পুরনো প্রায় ২ হাজার ৬০০ বেডের সঙ্গে যুক্ত হবে।
নতুন এই শেল্টারগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে, যেখানে ঘুমানোর স্থান, গরম খাবার, স্যানিটারি সুবিধা ও অন্যান্য সহায়তা পাওয়া যাবে। এছাড়া, বরিসেলসের মেট্রো ও রেল স্টেশনগুলোর পাবলিক অংশ বিশেষ শীতে গৃহহীনদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে; রাস্তায় ঘুমানোর পরিবর্তে এই স্টেশনগুলোকে ‘শীত থেকে রক্ষার কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যদিও “চরম শীত মোকাবিলা পরিকল্পনা” (Extreme Cold Plan) অস্থায়ী শীতকালীন সহায়তা দেয়, তবে এটি মূল সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান নয়, আশ্রয়স্থানগুলোর বেডের সংখ্যা এখনও গৃহহীনদের চাহিদার তুলনায় কম।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে, ফেডারেল সরকার ঘোষণা করেছে যে তারা শীতকালীন শেল্টার-বিদেশী রাজ্যে বরাদ্দ অর্থায়ন ৯২ লাখ ৫ হাজার ৫শ’ টাকা (€৬৫,০০০) নিলাম করছে। যার ফলে আগামী শীতে হিসাব করলে গৃহহীনদের জন্য ভর্তুকিপ্রাপ্ত আশ্রয়স্থানের সংখ্যা ও সম্ভবপর সহায়তা কমিয়ে দেয়া হতে পারে।
শীত পার হলেও গৃহহীনতা এবং বিশেষ করে শরণার্থী ও অভিবাসীদের ঘরবিহীনতা, বরাবরের মতোই সমাধাহীন সমস্যা। বহু পরিবার, একক পুরুষ, এমনকি শিশুসন্তানসহ গোষ্ঠী এখনও রাস্তায় বা অস্থায়ী আশ্রয়স্থানে থাকতে বাধ্য হচ্ছে।
শীর্ষ শীতকালে ফ্রস্টবাইট, হাইপোথারমিয়া বা শীতজনিত সাধারণ অসুখ গৃহহীনদের জন্য সত্যিই জীবন-ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়। সামান্য গরম কাপড়, গরম খাবার বা সাময়িক আশ্রয়স্থানের জায়গা মাস্টারপ্ল্যান হলেও, সেটা জীবন বাঁচাতে অনেক সময়ই পর্যাপ্ত নয়। যারা শেল্টারের বাইরে থাকা চালিয়ে যাচ্ছে বা যাদের শেল্টারের জন্য জায়গা পাচ্ছে না, তারা নতুন শীতে বিপদের মধ্যে রয়েছে। অনেকেই মেট্রো, রেল স্টেশন বা দোকান-দরজার সামনে রাত কাটাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দাতব্য, সেবা সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী ও সাধারণ মানুষ, সকলের সচেতন থাকার পাশাপাশি সাহায্য পৌঁছানো এবং দৃষ্টি রাখা জরুরী, ‘মানুষ’ হিসেবে তাদের যেন এভাবে মরতে না হয়।


