ফ্রান্সের প্রায় ৩৫০টি বড় ও মাঝারি শহরে আজ ২২ মার্চ দ্বিতীয় দফার পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দলগুলোর জন্য এক বিশাল অগ্নিপরীক্ষা।
রাজধানী প্যারিসে গত ২৫ বছরের সমাজতান্ত্রিক শাসন টিকিয়ে রাখতে লড়ছেন এমানুয়েল গ্রেগোয়ার, যিনি প্রথম দফায় ৩৮% ভোট পেয়ে এগিয়ে থাকলেও কনজারভেটিভ প্রার্থী রাশিদা দাতির শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন; এখানে অতি-বামপন্থী সোফিয়া চিকিরু লড়াইয়ে থেকে যাওয়ায় বামপন্থী ভোট ভাগ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেই-তে লড়াই চলছে আক্ষরিক অর্থেই হাড্ডাহাড্ডি, যেখানে বর্তমান মেয়র বেনোয়া পায়ান এবং অতি-ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালির ফ্রাঙ্ক আলিসিওর মধ্যে ব্যবধান মাত্র ১ শতাংশ। তবে সেখানে অতি-ডানপন্থীদের ঠেকাতে অতি-বাম প্রার্থী সেবাস্টিয়ান ডেলোগু লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়ে মেয়র পায়ানকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছেন। লিওঁ শহরে বর্তমান গ্রিন মেয়র গ্রেগরি ডুসেটকে কড়া টক্কর দিচ্ছেন অলিম্পিক লিওঁ ফুটবল ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও রাজনীতিতে নবাগত জঁ-মিশেল ওলাস, যার প্রতি ডানপন্থী দলগুলোর ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। উত্তরের শহর রুবে-তে সমাজতান্ত্রিকদের বড় ধাক্কা দিয়ে জয়ের দোরগোড়ায় রয়েছে অতি-বামপন্থী দল ‘ফ্রান্স আনবাউড’।
সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোর দল ‘রেনেসাঁ’ বড় শহরগুলোতে বেশ পিছিয়ে থাকলেও বর্দোতে থমাস কাজেনাভ জয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুপুরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের তুলনায় এবার ভোটার উপস্থিতির হার ১৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা নাগরিক সচেতনতার প্রতিফলন। এই নির্বাচনের ফলাফল বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার্দ ফিলিপের মতো নেতাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ল্য অভ্র শহরে তার জয় বা পরাজয় আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রার্থিতার গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ করবে।


