কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ। সোমবার ফ্রান্সের একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন ঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে তিনি বলেন, “স্বাধীন থাকতে হলে আমাদের অন্যদের কাছে ভয়ের কারণ হতে হবে।” ম্যাক্রঁ জানান, ফ্রান্স তার পারমাণবিক প্রতিরক্ষা কৌশলে এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে, যা ন্যাটোর পারমাণবিক মিশনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ তার বক্তৃতায় ইউরোপীয় মিত্রদের ফ্রান্সের পারমাণবিক মহড়ায় অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। তিনি জোরালোভাবে বলেন, “আমি চাই ইউরোপীয়রা তাদের নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করুক।” ফ্রান্সের এই পারমাণবিক সক্ষমতাকে ‘শান্তির সেবায় নিয়োজিত’ উল্লেখ করলেও তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ফ্রান্সের এমন শক্তি রয়েছে যা দিয়ে কোনো বড় শক্তির ওপর আঘাত হানলে সেই দেশ আর কখনোই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ন্যাটো ও ইউক্রেন ইস্যুতে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ফ্রান্স এই বিশাল পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। উল্লেখ্য, ব্রেক্সিটের পর বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হলো ফ্রান্স।
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানি নেতৃত্ব নিহতের ঘটনায় যখন বৈশ্বিক উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই ম্যাক্রঁ এই পূর্বনির্ধারিত ভাষণটি দিলেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সামরিক নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করাই ফ্রান্সের এই ঐতিহাসিক ঘোষণার মূল লক্ষ্য। এছাড়া আগামী ১০ মার্চ প্যারিসে একটি পারমাণবিক সম্মেলন আয়োজনের ঘোষণাও দেন তিনি, যেখানে বেসামরিক কাজে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারের প্রচার চালানো হবে।


