আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ফ্রান্স ও জার্মানির কূটনীতিকরা প্রকাশ করেছেন তাদের প্রিয় বাংলা শব্দ, যা ভাষার গভীরতা ও সাংস্কৃতিক মূল্যায়নকে তুলে ধরে। ভিডিও, শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান ও সামাজিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বাংলা ভাষার প্রতি সম্মান দেখান। এই উদ্যোগে কেবল ভাষার সৌন্দর্য প্রকাশ করা হয়নি, বরং ভাষাগত সম্মান, সাংস্কৃতিক অন্তর্ভুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করা হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, কূটনীতিকরা বিভিন্ন বাংলা শব্দ ও বাক্যাংশ উচ্চারণ করছেন এবং সেগুলোর অর্থ ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করছেন। এতে ভাষার প্রাণ ও সংবেদনশীলতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা হয়েছে।
জার্মান দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোৎজ তাঁর প্রিয় বাংলা শব্দ হিসেবে “শান্তি” উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই শব্দটি কেবল শব্দ নয়, বরং মানুষের হৃদয়ে শান্তির বার্তা পৌঁছে দেয়। ফরাসি দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলেস বলেছেন, তাঁর প্রিয় শব্দ “বন্ধুত্ব”, যা মানুষের মধ্যে সম্পর্ক ও সমঝোতার প্রতীক।
ভিডিওতে আরও অন্যান্য কর্মকর্তারা যেমন ‘আম’, ‘ফাটাফাটি’, ‘আবার দেখা হবে’, ‘ভাই’, ‘আপু’-এর মতো শব্দ শেয়ার করেছেন, যা বাংলা ভাষার বহুমাত্রিক সৌন্দর্য ও জীবন্ত ব্যবহার তুলে ধরে।
ফরাসি ও জার্মান কূটনীতিকরা ভিডিওতে বলেন, বাংলা ভাষার শব্দগুলো মনকে স্পর্শ করে এবং মানুষের অনুভূতি ও সম্পর্ককে সমৃদ্ধ করে। তারা এও বলেছেন যে, ভাষার মাধ্যমে এক দেশের মানুষের সাথে অন্য দেশের মানুষের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংযোগ গড়ে ওঠে। দূতাবাস কর্মকর্তারা সবাই মিলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং ভাষার প্রতি সম্মান ও গৌরব প্রকাশ করেছেন।
বিশ্বজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লাবরা এই দিনটি উদযাপন করে থাকে। গল্পকথা, কবিতা পাঠ, সাহিত্য, সংগীত ও নৃত্যর মাধ্যমে মাতৃভাষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয় এবং শিশু ও কিশোরদের মাতৃভাষার প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি করা হয়।
কূটনৈতিক ভিডিও ও প্রচারণা শিশু, কিশোর এবং প্রবাসী শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষার প্রতি আগ্রহ বাড়ায়, ভাষার সৌন্দর্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত হয়, অভিবাসী সম্প্রদায় ও স্থানীয় শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তি পায় এবং অনলাইন ও ভার্চুয়াল ওয়ার্কশপ শিশু ও কিশোরদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে।
২১ ফেব্রুয়ারি কেবল বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের জন্য একটি বিশেষ দিন। এটি ভাষার অধিকার, ভাষাগত বৈচিত্র্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের জন্য ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি এই দিনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
২১ ফেব্রুয়ারি এমন একটি দিন যা ভাষার অধিকার, ভাষাগত বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে এই দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্ব বহন করে কারণ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি এবং সকল ভাষাভাষীর জন্য সমান মর্যাদার দাবির প্রতীক হিসেবে এই দিনটি পালন করা হয়।


