ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে স্বপ্নের কর্মসংস্থানের খোঁজে শত শত শরণার্থীর ঢল নেমেছে। গত বৃহস্পতিবার ‘টেন্ট ফ্রান্স’ নামক একটি সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ চাকরি মেলায় প্রত্যাশার চেয়েও দ্বিগুণ মানুষ অংশ নেন। প্যারিসের বুর্স দ্যো থ্রাবাই বা শ্রম ভবনের সামনে সকাল থেকেই দেখা যায় অভিবাসীদের দীর্ঘ লাইন, যা পাশের সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ফরাসি ভাষায় দুর্বলতা আর স্থানীয় অভিজ্ঞতার অভাবে যারা বারবার প্রত্যাখ্যাত হচ্ছিলেন, তাদের জন্যই লরিয়েল, অ্যামাজন, জারা এবং ম্যাকডোনাল্ডসের মতো বিশ্বের নামী ৩০টি প্রতিষ্ঠান এই সুযোগ করে দিয়েছে।
মেলায় আসা সুদানি শরণার্থী সালাহ হারুন থেকে শুরু করে কঙ্গোর উচ্চশিক্ষিত জোসেফিন আলোকা—সবার চোখেই ছিল একই স্বপ্ন: একটি বৈধ কাজ। সালাহ হারুন আক্ষেপ করে বলেন, “অনেক জায়গায় সিভি পাঠাই কিন্তু কেউ উত্তর দেয় না।” অন্যদিকে, ম্যাকডোনাল্ডসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, তারা সিভির চেয়ে প্রার্থীর কাজ করার আগ্রহ ও উদ্যমকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এমনকি ভাষার সীমাবদ্ধতা থাকলেও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থায়ী চাকরির সুযোগ ছিল এই মেলায়। আয়োজক সংস্থা ‘টেন্ট ফ্রান্স’-এর মতে, সাধারণ মেলার চেয়ে এই বিশেষ মেলায় চাকরি পাওয়ার হার অনেক বেশি, যা গত বছরগুলোতে প্রায় ১০-১২ শতাংশ ছিল।
২০২৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্রান্সে আশ্রয় পাওয়ার প্রথম বছরে শরণার্থীদের কর্মসংস্থানের হার প্রায় ৪০ শতাংশে নেমে আসে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অ্যামাজন বা ইউনিকলোর মতো বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি নীতিতে বিশ্বাসী প্রতিষ্ঠানগুলো শরণার্থীদের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও উচ্চশিক্ষিত অনেক শরণার্থী তাদের যোগ্যতানুযায়ী কাজ না পেয়ে কিছুটা হতাশ, তবুও জীবনযুদ্ধের এই লড়াইয়ে প্যারিসের এই মেলা অনেকের জন্যই হতে পারে ইউরোপে স্থায়ী হওয়ার প্রথম সোপান।


