ফ্রান্সে বসবাসরত ভিয়েতনামী বংশোদ্ভূত মানুষজন ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পারিবারিক মিলনমেলার মধ্য দিয়ে উদযাপন করছে ২০২৬ সালের চান্দ্র নববর্ষ, যা ভিয়েতনামী ভাষায় “টেট” নামে পরিচিত। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী এটি ঘোড়ার বছর, যা শক্তি, অগ্রগতি ও সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
বিশেষ করে রাজধানী প্যারিস, লিয়ঁ এবং মার্সেই শহরে সপ্তাহজুড়ে চলছে উৎসবমুখর পরিবেশ। বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতে প্রার্থনা, পূর্বপুরুষ স্মরণ, ধূপ জ্বালানো এবং শান্তি কামনার আচার অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি আয়োজিত হয়েছে ড্রাগন নৃত্য, সিংহ নৃত্য, ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত পরিবেশনা এবং সাংস্কৃতিক শোভাযাত্রা।
প্যারিসের এশিয়ান সাংস্কৃতিক এলাকাগুলোতে হাজারো মানুষ অংশ নেয় রঙিন প্যারেডে। দোকানপাটে লাল রঙের কাগজের লণ্ঠন, ক্যালিগ্রাফি লেখা শুভেচ্ছা বার্তা ও সৌভাগ্যের প্রতীক সাজসজ্জা চোখে পড়ে। শিশুরা বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে ‘লাকি মানি’ খামে উপহার পায়, যা সমৃদ্ধি ও শুভকামনার প্রতীক।
ভিয়েতনামী রেস্টুরেন্ট ও কমিউনিটি সংগঠনগুলো বিশেষ খাবারের আয়োজন করে, যেমন বান চুং (চালের কেক), স্প্রিং রোল, নুডলস ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন। অনেকে নতুন পোশাক পরে পরিবারসহ মন্দিরে গিয়ে নতুন বছরের আশীর্বাদ গ্রহণ করে।
ফরাসি স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনও এ উৎসবে অংশ নেয়। আন্তঃসাংস্কৃতিক সম্প্রীতি বাড়াতে শহর কর্তৃপক্ষ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী ও খাদ্য মেলার আয়োজন করেছে। স্থানীয় ফরাসি বাসিন্দারা ও ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে অংশ নিয়ে ভিয়েতনামী ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন।
ফ্রান্সে প্রায় কয়েক লাখ ভিয়েতনামী বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস রয়েছে, যা ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ ভিয়েতনামী প্রবাসী সম্প্রদায় হিসেবে পরিচিত। তাই প্রতি বছরই টেট উৎসব দেশটিতে কেবল একটি জাতিগত উৎসব নয়, বরং বহুসংস্কৃতির মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, প্রবাসে বসবাস করলেও নতুন প্রজন্মের কাছে নিজস্ব ঐতিহ্য তুলে ধরাই এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে ফরাসি সমাজের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদার করাও এ আয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
নতুন বছরকে ঘিরে শান্তি, সমৃদ্ধি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের বার্তাই এবার প্রাধান্য পেয়েছে, যা প্রবাসী জীবনেও শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


