জার্মানিতে বসবাসরত সিরীয় শরণার্থীদের একটি বিশাল অংশকে আগামী তিন বছরের মধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্জ। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা’র সাথে বার্লিনে এক বৈঠকের পর চ্যান্সেলর জানান, জার্মানিতে থাকা প্রায় ৮০ শতাংশ সিরীয় নাগরিক এই সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে যাবেন বলে উভয় দেশ আশা করছে।
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ চলাকালীন প্রায় ১০ লাখ সিরীয় নাগরিক জার্মানিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পর চ্যান্সেলর মার্জ বলেন, সিরিয়ার পরিস্থিতি এখন “মৌলিকভাবে পরিবর্তিত” হয়েছে এবং তাদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা এখন নতুন করে মূল্যায়ন করা দরকার।
জার্মানিতে অভিবাসন বিরোধী দল এএফডি (AfD)-র জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় মার্জ সরকার শরণার্থীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। চ্যান্সেলর জানান, প্রাথমিকভাবে যাদের বসবাসের বৈধ অধিকার নেই এবং যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের ফেরত পাঠানোই হবে অগ্রাধিকার। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, অধিকাংশ সিরীয়ই তাদের দেশ পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে ফিরে যেতে আগ্রহী।
অবশ্য মার্জ স্পষ্ট করেছেন যে, যারা জার্মানিতে ডাক্তার বা সেবাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন এবং থাকতে ইচ্ছুক, তাদের থেকে যাওয়ার বিষয়টি জার্মানির জাতীয় স্বার্থেই বিবেচনা করা হবে।
প্রেসিডেন্ট আল-শারা ও ‘সার্কুলার মাইগ্রেশন’ মডেল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসা আহমেদ আল-শারা জার্মানির অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি একটি ‘সার্কুলার মাইগ্রেশন’ মডেল তৈরির প্রস্তাব দেন, যার মাধ্যমে সিরীয়রা জার্মানিতে তাদের স্থিতিশীলতা বজায় রেখেই নিজ দেশ পুনর্গঠনে অবদান রাখতে পারবে।
তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন জার্মানির বিরোধী দল গ্রিন পার্টির ফ্রানজিসকা ব্রান্টনার। তিনি দাবি করেন, সিরিয়ার অবকাঠামো এখনো অত্যন্ত দুর্বল এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল। অনেক সিরীয় পরিবার জার্মানিতে গভীরভাবে মিশে গেছে এবং তাদের সন্তানরা এখানকার স্কুলে পড়াশোনা করছে।
এদিকে, আল-শারা’র সফরকে কেন্দ্র করে বার্লিনে বিক্ষোভ করেছে কুর্দি সম্প্রদায়। তারা সিরিয়ায় সংখ্যালঘু সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে এবং আল-শারা’র বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। উল্লেখ্য, আসাদ পরবর্তী সিরিয়ায় এখনো জাতিগত সহিংসতা এবং কুর্দি গোষ্ঠীদের সাথে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে।


