আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে ইউরোপের গ্যাসের দাম লাফিয়ে ৭০০ ডলার ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।
বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানকার যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি প্রভাব ফেলে ইউরোপসহ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।
ইউরোপ ইতোমধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে বিকল্প জ্বালানি উৎসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী বন্ধের খবরে গ্যাসের ফিউচার মার্কেটে ব্যাপক দরপতন ও উত্থান-পতন দেখা যায়। লেনদেনের এক পর্যায়ে দাম ৭০০ ডলার অতিক্রম করে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ইউরোপে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এবং শীত মৌসুমের আগে জ্বালানি মজুত নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গৃহস্থালি গ্যাসের বিল বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানিগুলো বিকল্প রুট বিবেচনা করলেও তা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। ফলে পরিবহন ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে জ্বালানি বাজারে আরও বড় ধাক্কা আসতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


