ইউক্রেন কর্তৃক ইসরায়েলকে ড্রোন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করেছে ইরান। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি দাবি করেছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইউক্রেন কার্যত ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, এই সহায়তার কারণে পুরো ইউক্রেন এখন ইরানের জন্য একটি ‘লক্ষ্যবস্তুতে’ পরিণত হয়েছে।
জেলেনস্কি জানান যে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের শাহেদ ড্রোন মোকাবিলায় অন্তত ১১টি দেশ কিয়েভের কাছে কারিগরি ও নিরাপত্তা সহায়তা চেয়েছে। জেলেনস্কি স্পষ্ট করেছেন যে, যারা ইউক্রেনের স্বাধীনতা ও নাগরিকদের জীবন রক্ষায় সাহায্য করে, তাদেরকেই কিয়েভ এই ‘ড্রোন বিধ্বংসী’ সহায়তা দেবে। ইতোমধ্যে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো রক্ষায় ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও বিশেষজ্ঞ দল মোতায়েন করেছে কিয়েভ।
রাশিয়ার আগ্রাসনের মুখে গত চার বছরে ইউক্রেন ড্রোন মোকাবিলায় অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। বর্তমানে তাদের ড্রোন ধ্বংস করার হার প্রায় ৮০ শতাংশ। তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূলে রয়েছে:
ভারী মেশিনগান সজ্জিত পিকআপ ভ্যান, সিগন্যাল জ্যাম করার প্রযুক্তি, নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন ধ্বংসকারী ড্রোন।
উল্লেখ্য যে, যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান রাশিয়ার অন্যতম প্রধান মিত্র। মস্কোকে কয়েক হাজার শাহেদ ড্রোন সরবরাহের পাশাপাশি বর্তমানে রাশিয়ায় এসব ড্রোন উৎপাদনের প্রযুক্তিগত সহায়তাও দিচ্ছে তেহরান। এখন ইউক্রেন যদি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের শত্রুপক্ষকে একই ধরনের প্রতিরক্ষা সহায়তা দেয়, তবে তা যুদ্ধের বৈশ্বিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


