ইতালিতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় দেশটির প্রবাসী সমাজে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সময় গভীর রাতে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও ভারী যানবাহনের সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত জরুরি সেবায় খবর দিলে অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই বাংলাদেশিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পরপরই ইতালির সড়ক নিরাপত্তা ও মহাসড়ক তদারককারী সংস্থা Polizia Stradale ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতি, সড়কের পিচ্ছিল অবস্থা এবং সম্ভাব্য চালকের অসাবধানতাকে কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা দুর্ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ, গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি পরীক্ষা এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছেন। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট চালকদের রক্তে অ্যালকোহল বা মাদক পরীক্ষা করা হবে বলেও জানা গেছে।
কমিউনিটি সূত্রে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছিলেন এবং স্থানীয় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তিনি পরিবার-পরিজনের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। দেশে তার স্ত্রী-সন্তান ও বয়স্ক বাবা-মা রয়েছেন। মৃত্যুসংবাদ পৌঁছানোর পর বাংলাদেশে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম নেমে আসে। ইতালির বিভিন্ন শহরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
ইতালিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের একটি বড় অংশ নির্মাণ, কৃষি, রেস্তোরাঁ ও লজিস্টিক খাতে কর্মরত। অনেকেই দূরপাল্লার যাতায়াত করে কাজ করেন, যা ক্লান্তিজনিত ঝুঁকি বাড়ায় বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে রাতের বেলা কম দৃশ্যমানতা ও অতিরিক্ত গতি ঝুঁকি বাড়ায়। সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত বিশ্রাম, গতিসীমা মেনে চলা এবং যানবাহনের যান্ত্রিক পরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে ইতালিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে দূতাবাস স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করছে। পাশাপাশি প্রবাসী সংগঠনগুলো আর্থিক সহায়তা তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে এ মর্মান্তিক ঘটনা প্রবাসীদের নিরাপদ যাতায়াত ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে। প্রবাস জীবনের সংগ্রামের মাঝেও নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ানো এবং আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি জোরালো হয়ে উঠছে।


