ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বিচারকরা তাঁর সরকারের অবৈধ অভিবাসন‑বিরোধী নীতিকে কার্যকরভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি এই পরিস্থিতিকে “সরকারের কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া” বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, সরকার নিরাপত্তা ও আইন মেনে কাজ চালিয়ে যাবে।
এক আলজেরিয়ান নাগরিক, যার ২৩টি দোষী রেকর্ড রয়েছে, তার ডিপোর্টেশন বা দেশে ফেরত পাঠানো আটকানো হয়েছে এবং বিচারকরা এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে তাকে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করায় সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
মেলোনির সরকার বিচার বিভাগকে প্রতিনিয়ত সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতির পথে বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযুক্ত করছে। বিশেষ করে স্বাধীন বিচার বিভাগ‑কে রাজনৈতিকভাবে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছে সরকার।
ইতালিতে মার্চ ২২‑২৩, ২০২৬‑এ ন্যায়বিচার সংস্কার রেফারেন্ডাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যেখানে বিচার বিভাগের কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তাব উঠেছে। এই রেফারেন্ডামকে কেন্দ্র করে মেলোনির সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। বিচার বিভাগ ও বিরোধীরা বলছেন, সংস্কারবিচার বিভাগের স্বাধীনতা কমিয়ে দিতে পারে।
ইতালির আদালতগুলো সম্প্রতি একাধিক রায়ে সরকারের অভিবাসন নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, যেমন: একটি আদালত এনজিও‑কে ৭৬ হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে কারণ তাদের উদ্ধারকারী নৌকা অবৈধভাবে আটক হয়েছিল। আরেকটি রায়ে আলজেরিয়ান অভিবাসীকে ৭০০ ইউরো ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে কারণ তাকে ঠিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়নি।
এই রায়গুলো মেলোনির দৃষ্টিতে অ্যাবসার্ড বা অযৌক্তিক এবং যে সরকার আইন অনুযায়ী কঠোর হতে চাইছে, তা আদালত প্রশ্ন করছে, এটাই মূল উত্তেজনার কারণ বলে মেলোনি মত প্রকাশ করেছেন। মেলোনি বলেন,
“এখন, আমি মনে করি এটা জিজ্ঞেস করা যেতেই পারে, যে সমস্ত লোক বার বার আইন ভঙ্গ করে তারা যদি আমাদের ভূখণ্ডে থেকে যায় এবং সরকার আইন প্রয়োগের চেষ্টা করায় দণ্ডিত হয়, তাহলে আমরা কিভাবে সুষ্ঠু ভঙ্গিতে অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলা করব?”
ইতালিতে সরকার বনাম বিচার বিভাগ সৃষ্টি হওয়া বিরোধভাগ ভোক্তিক অভিবাসন নীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, এবং রাজনৈতিক চাপ, এসবের সমন্বয়ে এক জটিল রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছে।


