অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ইতালি। প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি সরকার অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করতে একটি বিস্তৃত খসড়া আইন অনুমোদন করেছে। বুধবার (রোম সময়) মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিলটি অনুমোদনের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার ইতালিতে নতুন সীমান্ত নীতির পথ খুলে গেল। সরকারের ভাষ্য, অভূতপূর্ব অভিবাসনচাপ মোকাবিলা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষাই এই আইনের মূল লক্ষ্য।
খসড়া আইনের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ইতালির আঞ্চলিক জলসীমায় অভিবাসীবাহী জাহাজ ঢোকা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া। আইন কার্যকর হলে কর্তৃপক্ষ, অভিবাসী জাহাজের প্রবেশ ৩০ দিন পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা, নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে অবরোধ ৬ মাস পর্যন্ত বাড়ানো এবং সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশ বা জননিরাপত্তা হুমকি সন্দেহ হলে সরাসরি বাধা দিতে পারবে। অর্থাৎ বাস্তবে ভূমধ্যসাগরে একটি সীমিত নৌ-ব্লকেড ব্যবস্থা চালু হবে।
আইনটি পাস হলে ইতালির বহুল আলোচিত “আউটসোর্সড অ্যাসাইলাম” পরিকল্পনাও পুনরুজ্জীবিত হতে পারে।এর আওতায়, ইতালিতে ঢোকার আগেই অভিবাসীদের আলবেনিয়ার প্রসেসিং সেন্টারে পাঠানো হবে, সেখানেই আশ্রয় আবেদন যাচাই হবে আর অনুমোদন না পেলে ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ থাকবে না। এর আগে আদালতের রায়ে এই পরিকল্পনা স্থগিত হয়েছিল।
নতুন বিলে বলা হয়েছে, ইতালির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ দেশগুলোতে অভিবাসীদের স্থানান্তর করা যাবে।
অর্থাৎ, নিজ দেশে না ফিরলেও অন্য নিরাপদ তৃতীয় দেশে পাঠানো হবে। এতে ইউরোপে পৌঁছানোর পরও ইতালিতে থাকার নিশ্চয়তা থাকবে না।
মানবিক উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনাকারী জাহাজগুলোর জন্যও নতুন বিধিনিষেধ আসছে। নিয়ম ভাঙলে, সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ইউরো জরিমানা ও পুনরাবৃত্তিতে জাহাজ বাজেয়াপ্ত করা হবে। সমালোচকরা বলছেন, এতে সমুদ্রে উদ্ধার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
নতুন আইনে আরও থাকছে, সীমান্ত নজরদারি জোরদার, ইউরোপীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত অভিযান ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তি অনুমোদনের পরদিনই ইতালি এই বিল পাসের উদ্যোগ নেয়, যা ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মন্ত্রিসভা অনুমোদনের পর বিলটি এখন যাবে, প্রতিনিধি পরিষদে, এরপর সিনেটে।দুই কক্ষে পাস হলেই আইন কার্যকর হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আইন কার্যকর হলে, ভূমধ্যসাগর রুটে অভিবাসন কমতে পারে, ইউরোপের অভিবাসন নীতিতে ডানপন্থি প্রভাব বাড়বে এবং মানবাধিকার বনাম নিরাপত্তা বিতর্ক আরও তীব্র হবে।এই আইনের মাধ্যমে ইতালি কার্যত জানিয়ে দিল, ইউরোপে পৌঁছানো মানেই আর আশ্রয় পাওয়া নয়।


