ইতালির সাসারি শহরে একটি সুসংগঠিত অপরাধী চক্রের সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যারা ইতালীয় শ্রম মন্ত্রণালয়ের পোর্টাল ব্যবহার করে শত শত অবৈধ অভিবাসীকে দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ার অপচেষ্টা করছিল। পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসের নির্দেশে লেবার ইন্সপেক্টরেট ও ক্যারাবিনিয়ারি পুলিশ ২০২২ থেকে এখন পর্যন্ত দীর্ঘ তদন্ত চালিয়ে এই প্রতারণাটি ধরে ফেলে।
জালিয়াতির ভয়াবহ কৌশল:
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ২৯ জন ব্যক্তি অন্তত ২৯১ বার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্মে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছেন। তাদের প্রতারণার কৌশলগুলো ছিল অত্যন্ত সুক্ষ্ম।
উদ্যোক্তাদের ছদ্মবেশ: স্থানীয় নির্মাণ, কৃষি এবং আতিথেয়তা খাতের ব্যবসায়ীরা এই চক্রান্ত সম্পর্কে কিছু না জানলেও, তাদের নাম ও ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করে কর্মী নিয়োগের আবেদন করা হয়েছিল।
মৃত ব্যক্তির তথ্য ব্যবহার: জালিয়াতির চরম পর্যায়ে দেখা গেছে, এক মৃত উদ্যোক্তার লগ-ইন তথ্য বা ক্রেডেনশিয়াল ব্যবহার করে ডেটাবেস থেকে নথিপত্র চুরি করে আবেদনপত্রের সাথে যুক্ত করা হয়েছে।
বিশাল নথি আপলোড: নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এড়ানোর জন্য অপরাধীরা হাজার হাজার ভুয়া ব্যবসায়িক নথি পোর্টালে আপলোড করেছিল যাতে আবেদনগুলো ‘বৈধ’ বলে মনে হয়।
এই প্রতারণাটি মূলত দক্ষিণ এশিয়া এবং আফ্রিকার দেশগুলোর সেই সব মানুষকে লক্ষ্য করে করা হয়েছিল, যারা উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছাড়তে মরিয়া। তাদের সামনে অস্তিত্বহীন চাকরি এবং বাসস্থানের ভুয়া আশ্বাস দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল এই চক্রের। যদি পুলিশ সময়মতো এটি শনাক্ত না করত, তবে এই বিপুল সংখ্যক আবেদন ‘কোটা’র অন্তর্ভুক্ত হয়ে ইতালিতে প্রবেশের অনুমতি পেয়ে যেত।
বর্তমানে তদন্তকারীরা এই অপরাধী চক্রের শেকড় আরও গভীরে রয়েছে কি না এবং এর সাথে আরও বড় কোনো আন্তর্জাতিক পাচারকারী দলের যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অন্যের ছদ্মবেশ ধারণ, জাল নথিপত্র তৈরি এবং টেলিম্যাটিক সিস্টেমে অবৈধ প্রবেশের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।


