উত্তর ও মধ্য ইতালির গুরুত্বপূর্ণ নগরী রোম ও লাজিও অঞ্চলে অভিবাসী ও শরণার্থীদের ব্যাংক হিসাব খোলার দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর করতে ‘রেতে রাই’ নামে একটি বিশেষ সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই নেটওয়ার্ক মূলত আশ্রয়প্রার্থী, পারমিট নবায়নের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তি এবং সদ্য প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া তরুণদের ‘বেসিক একাউন্ট’ খুলতে সহায়তা করছে। ইতালির অভিবাসী ও শরণার্থী সম্প্রদায়ের জন্য ব্যাংকিং সেবা সহজীকরণের এই উদ্যোগকে স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংস্থাগুলো ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছে।
অনেক অভিবাসী অভিযোগ করেছেন যে ব্যাংক ও পোস্ট অফিস অতিরিক্ত কাগজপত্র চেয়ে বা নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে তাদের একাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া আটকে দিচ্ছে। এর ফলে তারা নিয়মিত বেতন গ্রহণ, ভাড়া পরিশোধ, অনলাইন লেনদেন, এবং অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রমে সমস্যা সম্মুখীন হচ্ছেন।
এই সমস্যা মোকাবিলায় রেতে রাই নেটওয়ার্ক নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এখন থেকে, যদি ব্যাংক বা পোস্ট অফিস কোনো আবেদন গ্রহণ না করে, তবে তারা লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হবে। এছাড়া, আবেদনকারীরা নির্ধারিত আইনি নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগ করার অধিকার রাখেন।
প্রবাসীদের সুবিধার্থে ‘বেসিক একাউন্ট’ খোলার আইনগত অধিকার এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত লিফলেট ও নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে। এগুলো ইতালিয়ান, ইংরেজি, আরবি সহ একাধিক ভাষায় উপলব্ধ, যাতে ভাষাগত বাধা কমে এবং আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হয়। লিফলেটগুলোর মধ্যে রয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ, প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র ও নথিপত্রের তালিকা এবং অভিযোগ ও আইনগত সহায়তা গ্রহণের নিয়মাবলী।
এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে প্রোগ্রামা ইন্টেগ্রা–এর সমন্বয়ে। সংস্থাটি অভিবাসীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছে। কর্মকর্তাদের মতে, ব্যাংকিং সেবা সহজলভ্য হলে প্রবাসীরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবে, নিয়মিত বেতন গ্রহণ করতে পারবে এবং শ্রমবাজারে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবে।
এতে উপকৃত হবেন, আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থী, পারমিট নবায়নের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তি, সদ্য ১৮ বছর পূর্ণ করা তরুণ ও তরুণী, এবং সামাজিক সুরক্ষা ও কাজের চুক্তিভিত্তিক বেতন প্রাপ্তি নিয়ে আগ্রহী অভিবাসীরা । রেতে রাই নেটওয়ার্কের লক্ষ্য হলো, অভ্যন্তরীণ ব্যুরোক্রেসি ও ভাষাগত সমস্যার কারণে যারা ব্যাংকিং সেবা থেকে বঞ্চিত, তাদের জন্য সহজ ও নির্ভরযোগ্য প্রবেশপথ তৈরি করা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই উদ্যোগের ফলে, ব্যাংকিং সেবা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি পাবে, শ্রমবাজারে অভিবাসীদের অংশগ্রহণ বাড়বে, অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেন কমবে এবং সামাজিক সংহতি ও অন্তর্ভুক্তি জোরদার হবে। রোম ও লাজিওতে শুরু হওয়া এই মডেল সফল হলে ইতালির অন্যান্য অঞ্চলেও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।


