পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে চলা প্রচারণা শেষ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন একটি বিতর্ক সামনে এসেছে। শেগা দলের নেতা ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী আন্দ্রে ভেনচুরার প্রচারণায় ব্যবহৃত পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী কোথায় তৈরি হয়েছে, এ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিশেষ করে একটি টি-শার্টের ছবি ভাইরাল হয়, যেখানে থাকা লেবেলে লেখা ছিল “মেইড ইন বাংলাদেশ”।
গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ছবিতে দেখা যায়, আন্দ্রে ভেনচুরার নির্বাচনী প্রচারণায় বিতরণ করা একটি টি-শার্ট, যার ভেতরের ট্যাগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে সেটি বাংলাদেশে তৈরি। এই তথ্যটি দ্রুতই আলোচনার জন্ম দেয় এবং রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে।
বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে এই কারণে যে, নির্বাচনী প্রচারণার সময় আন্দ্রে ভেনচুরা একটি বিতর্কিত পোস্টার ব্যবহার করেছিলেন, যেখানে লেখা ছিল “ইশ্তু নাঁও এ ও বাংগ্লাদেশ” বা এটা বাংলাদেশ নয়। ওই পোস্টারটি অভিবাসন ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে তার রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতীক হিসেবে ব্যাপক সমালোচিত হয়। ফলে তার প্রচারণায় ব্যবহৃত পোশাক বাংলাদেশে তৈরি, এই তথ্য অনেকের কাছেই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে।
এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে এগিয়ে আসে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘এসআইসি’–এর ফ্যাক্টচেকিং ইউনিট। তারা সংশ্লিষ্ট টি-শার্টটি সরাসরি সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখে এবং নিশ্চিত হয় যে টি-শার্টটি সত্যিই বাংলাদেশে তৈরি।
ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শুধু টি-শার্ট নয়, ভেনচুরার প্রচারণায় ব্যবহৃত অন্যান্য প্রচারসামগ্রীও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উৎপাদিত। এর মধ্যে একটি ব্যাগের লেবেলে লেখা রয়েছে “মেইড ইন ইন্ডিয়া”, যা থেকে বোঝা যায় সেটি ভারতে তৈরি।
এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে ‘এসআইসি’ কর্তৃপক্ষ আন্দ্রে ভেনচুরার প্রচারণা শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত তারা কোনো প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পায়নি।
ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনের উপসংহারে ‘এসআইসি’–এর ফ্যাক্টচেকিং ইউনিট জানিয়েছে, আন্দ্রে ভেনচুরার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত টি-শার্টগুলো বাংলাদেশে তৈরি এবং ব্যাগগুলো ভারতে উৎপাদিত, এ দাবি সত্য।
এই ঘটনা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে রাজনৈতিক দ্বিচারিতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যবস্থার বাস্তবতা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তবে ফ্যাক্টচেকের মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট, প্রচারণার এই সামগ্রীগুলো ইউরোপে নয়, বরং এশিয়ার দেশগুলোতেই তৈরি হয়েছে।


