পর্তুগালে কর্মরত প্রায় তিন হাজার নেপালি অভিবাসী এক ভয়াবহ প্রশাসনিক ও আইনি সংকটের মুখে পড়েছেন। দেশটির অভিবাসন সংস্থা এআইএমএ এই বিশাল সংখ্যক নেপালি কর্মীকে পর্তুগাল ছাড়ার চূড়ান্ত নোটিশ বা ‘বহিষ্কারের চিঠি’ পাঠিয়েছে।
২০২২ সাল থেকে দেশটিতে ক্যাটারিং ও কৃষি খাতে কঠোর পরিশ্রম করে আসা এই প্রবাসীরা দাবি করছেন, তারা একটি সুসংগঠিত জালিয়াতি চক্রের শিকার। মূলত, এআইএমএ-র কাছে জমা দেওয়া তাদের নেপালি অপরাধের রেকর্ড বা পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটে ভুয়া স্ট্যাম্প থাকার কারণেই এই বিপত্তি। অভিবাসীদের দাবি, তারা সরল বিশ্বাসে দালালের মাধ্যমে কাজ করতে গিয়ে প্রতারিত হয়েছেন এবং এখন সেই জালিয়াতির দায় তাদের ওপর চাপানো হচ্ছে।
অভিগ্যা, জনক ও কুশলের মতো হাজার হাজার নেপালি এখন পর্তুগাল ছাড়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তারা বলছেন, “আমরা নিরীহ ও শান্তিপূর্ণ মানুষ, যারা পর্তুগালের সমাজে কোনো সমস্যা সৃষ্টি করেনি বরং বছরের পর বছর অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।”
এই বহিষ্কারাদেশ ঠেকাতে এবং নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে তারা ইতোমধ্যেই পর্তুগিজ বিচার বিভাগ ও জুডিশিয়াল পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই মানবিক সংকটে নেপালি দূতাবাসও তাদের পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের মতে, এই ৩ হাজার মানুষ কোনো অপরাধী চক্রের অংশ নয়, বরং তারা নিজেরাও সেই জালিয়াতির শিকার। বিদেশের মাটিতে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে আসা এই মানুষগুলোর ভবিষ্যৎ এখন পর্তুগিজ আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করছে।


