বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ বিঘ্নের কারণে পর্তুগাল বর্তমানে জ্বালানি সংকট ঘোষণার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। দেশটির পরিবেশ ও জ্বালানি মন্ত্রী মারিয়া দা গ্রাসা কারভালহো সতর্ক করেছেন যে, প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধির হার ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত বিপদসীমার অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত কয়েক সপ্তাহে গ্যাসের দাম প্রায় ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মূলত কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ফল। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্তুগিজ সরকার একটি জরুরি পদক্ষেপের কাঠামো অনুমোদন করেছে, যা কার্যকর হলে সরকার সরাসরি জ্বালানির দাম বেঁধে দেওয়ার আইনি ক্ষমতা পাবে।
পর্তুগালের নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, জ্বালানি সংকট আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হলে সরকার পরিবার এবং কোম্পানিগুলোকে সুরক্ষা দিতে ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নিতে পারবে। এর মধ্যে রয়েছে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে বিদ্যুৎ বা গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সরবরাহকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ভর্তুকি প্রদান। তবে মন্ত্রী কারভালহো স্পষ্ট করেছেন যে, এটি কোনো সরবরাহের ঘাটতি নয়, বরং আকস্মিক ‘মূল্যজনিত ধাক্কা’ থেকে জনগণকে বাঁচানোর একটি হাতিয়ার। ইউরোপীয় নির্দেশিকা ২০২৪/১৭৮৮-এর অধীনে পর্তুগালকে এই ধরণের হস্তক্ষেপের আগে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
বিদ্যুৎ খাতের তুলনায় পর্তুগালের প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজার বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। যদিও দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসায় বিদ্যুৎ খাত তুলনামূলক নিরাপদ, কিন্তু রান্নার গ্যাস ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের উচ্চমূল্য অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কাতার থেকে আসা এলএনজি শিপমেন্টে বিলম্বের কারণে ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আগেভাগেই গ্যাসের মজুদ পূর্ণ করার জন্য চাপ দিচ্ছে। মার্চের শুরুতে ইইউ-র গ্যাস মজুদের পরিমাণ ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশ কম।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা এই সংকট মোকাবিলায় সরাসরি দাম কমানোর পাশাপাশি নাগরিকদের আচরণ পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছে। আইইএ-র নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল সতর্ক করেছেন যে, বর্তমান জ্বালানি সংকট ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। সংস্থাটি সংকট কাটাতে বাসা থেকে কাজ করা (টেলিওয়ার্কিং), বিমান ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। পর্তুগিজ সরকারও নাগরিকদের গ্যাসের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহারের মতো বিকল্প ব্যবস্থার দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।


