আজ, ১৮ জানুয়ারি, পর্তুগালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, যা ২০২৫ সালের সংসদ নির্বাচনের পর দেশটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে একধরনের স্থিতিশীলতার পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা ১১জন, এবং ভোটের মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা(এসএনএস), অভিবাসননীতি ও বাসস্থানের সংকট।
প্রধান প্রার্থীরা এবং তাদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম
অ্যান্টোনিউ জোসেসে গুরু: সাবেক সমাজতান্ত্রিক নেতা, বর্তমানে সোশালিস্টপার্টি(পিএস) এর আনুষ্ঠানিক সমর্থনপ্রাপ্ত। নিজেকে গণতন্ত্র, সংবিধান, জাতীয়স্বাস্থ্য ও পাবলিক শিক্ষার রক্ষাকবচ হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
লুইস মার্কেস মেন্দেস: সাবেক পিএসডিনেতা, প্রথাগত কেন্দ্র–ডান রাজনীতির প্রতিনিধি। ক্ষমতাসীন জোট (পিএসডি ও সিডিএস) এবং প্রভাবশালী কনজারভেটিভ ব্যক্তিত্বদের সমর্থন।
আলমিরান্তে এনরিকি গুভেইয়া ই মেলু:সাবেক নৌবাহিনী প্রধান এবং কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জনপ্রিয়। নিজেকে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে রাষ্ট্রনায়ক সুলভ বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন।
কাতারিনা মার্তিন্স: সাবেক ব্লকো দে এসকেরদা(বিই) নেত্রী।বামপন্থী; মজুরি, পেনশন, সামাজিক সুরক্ষা, সরকারি স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন অধিকারকে প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছেন।
আন্দ্রে ভেনতুরা: কট্টর ডানপন্থী শেগা দলের নেতা।অভিবাসন, অপরাধ দমন, ‘আইন–শৃঙ্খলাভিত্তিক রাষ্ট্র’ এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ।সাম্প্রতিক মাসে সমর্থনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
অ্যান্টোনিউ ফিলিপি: কমিউনিস্ট পার্টি(পিসিপি) সমর্থিত; শ্রমিক অধিকার ও রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রাখছেন।ন্যাটো সমালোচনামুখী অবস্থান।
জর্জে পিন্তু:লিভ্রে (লিব্রে) এমপি, প্রগতিশীল এবং ইউরোপপন্থী।জলবায়ু ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং সংখ্যালঘু সুরক্ষা প্রাধান্য।
সর্বশেষ জরিপ ও জনমতের অবস্থা
টিভিআই–সিএনএন যৌথজরিপ অনুযায়ী, লুইস মার্কেস মেন্দেস সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন, তবে অ্যান্টোনিউ জোসে সেগুরু দ্বিতীয় স্থানে ঘনিষ্ঠভাবে অবস্থান করছেন। আন্দ্রেভেনতুরা সাম্প্রতিক মাসে সবচেয়ে দ্রুত সমর্থন বাড়িয়েছেন, কিন্তু এখনও পিছিয়ে। জরিপে দেখা গেছে ভোটাররা স্বাস্থ্যব্যবস্থা, অভিবাসন নীতি এবং বাসস্থানের সংকটকে মুখ্যউদ্বেগ হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও বিভাজন
বাম–ডান ভেদ স্পষ্ট: সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ ও অধিকারকর্মীরা গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে জোসে সেগুরু ও গুভেইয়া ই মেলুদের দিকে ঝুঁকছেন। সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের সংস্কারের পক্ষে থাকা বাম ভোটাররা কাতারিনা মার্তিন্স, অ্যান্টোনিউ ফিলিপি ও জর্জে পিন্তুর দিকে ঝুঁকছেন। শেগা দ্বিতীয় বৃহত্তম সংসদীয় শক্তি হওয়ায় ভেনতুরার পারফরম্যান্স কেবল তার ব্যক্তিগত অবস্থান নয়, কট্টর ডান রাজনীতির ভবিষ্যৎ প্রভাবও মাপবে।
ভোটের মূল ইস্যু
করোনা পরবর্তী ব্যবস্থা ও হাসপাতাল অবকাঠামো, অবৈধ অভিবাসন, বিদেশি শ্রমিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং মূল শহরে বাড়ির অভাব ও ভাড়া বৃদ্ধি।
আন্তর্জাতিক ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
এই নির্বাচন পরবর্তী পাঁচ বছরের রাষ্ট্রপতির ভূমিকাকে নির্ধারণ করবে। রাষ্ট্রপতি শুধুমাত্র প্রতীকী নয়; তিনি নীতিনির্ধারণ ও রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। স্বাস্থ্য, অভিবাসন, বাসস্থান ও গণতন্ত্র বিষয়ক ভোট ফলাফলের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হবে।
আজকের পর্তুগিজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেবল একজন রাষ্ট্রপতি বাছাই নয়; এটি দেশেরস্বাস্থ্য, অভিবাসন, বাসস্থান ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণের পরীক্ষার মঞ্চ। ভোটের ফলাফল বাম-ডান, প্রগতিশীল-কনজারভেটিভ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেবে।


