পর্তুগালে দীর্ঘদিন ধরে রেসিডেন্স পারমিট বা ‘এআর’ কার্ডের অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার প্রবাসীর জন্য ২০২৬ সালটি নিয়ে এসেছে অভাবনীয় সাফল্যের খবর। দেশটির বর্তমান অভিবাসন সংস্থা AIMA তাদের কার্যক্রমের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে বকেয়া আবেদন বা ‘ব্যাকলগ’ নিষ্পত্তিতে নজিরবিহীন সাফল্য দেখিয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫-২৬ সালে রেসিডেন্স পারমিট ইস্যুর হার প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সরাসরি সুফল পাচ্ছেন পর্তুগালে বসবাসরত কয়েক হাজার বাংলাদেশি।
পর্তুগাল সরকারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে এআইএমএ-এর কর্মী সংখ্যা ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ৭৭০ জনে উন্নীত করা হয়েছে। সংস্থাটি তাদের সিস্টেমে সরাসরি NISS (সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর) ইন্টিগ্রেশন চালু করায় এখন রিয়েল-টাইমে ডাটা যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে ২০২২ ও ২০২৩ সালে আবেদন করা অনেক প্রবাসী এখন দ্রুত ইমেইলে ফি পরিশোধ ও ডকুমেন্ট যাচাইয়ের নোটিশ পাচ্ছেন। অনলাইন রিনিউয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৩২ হাজারেরও বেশি প্রবাসী ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাদের পারমিট আপডেট করতে সক্ষম হয়েছেন।
সরকার ২০২৬ সালের মধ্যেই গোল্ডেন ভিসা বা বিনিয়োগ-ভিত্তিক রেসিডেন্সির সকল বকেয়া ফাইল নিষ্পত্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। যদিও পার্লামেন্টে অনুমোদিত নতুন জাতীয়তা আইনে নাগরিকত্বের সময়সীমা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে কিছুটা বিতর্ক রয়েছে, তবুও যারা ইতিপূর্বে আবেদনের লাইনে আছেন, তাদের জন্য বায়োমেট্রিক অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রক্রিয়া দ্রুত করা হয়েছে। বিশেষ করে লিসবন ও পোর্তো শহরে বসবাসরত বাংলাদেশিরা দীর্ঘ অপেক্ষার পর কার্ড হাতে পাওয়ায় প্রবাসী কমিউনিটিতে স্বস্তি ফিরেছে।
আইনি জটিলতা এড়াতে সরকার ঘোষণা করেছে যে, রেগুলেটরি ডিক্রি (৮৪/২০০৭) অনুযায়ী কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বসবাসের অধিকার আরও ৬ মাস বৈধ থাকবে। বিশেষ করে যাদের কার্ড ৩০ জুন ২০২৫ বা তার আগে শেষ হয়েছে, তাদের বৈধতা ১৫ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়াও পর্তুগালে অর্জিত শিক্ষা বা কোর্সগুলো এখন পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়ন জুড়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বীকৃত হবে, যা শিক্ষার্থী ও পেশাদারদের জন্য বড় একটি পাওয়া।
সরকার ‘লোজাস দো সিদাদাঁও’ আধুনিকীকরণের মাধ্যমে ১০০টিরও বেশি অনলাইন সেবা চালু করেছে। যদিও ‘এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট’ পদ্ধতিটি পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হয়েছে, তবে বর্তমান আবেদনকারীদের দ্রুত বৈধতার আওতায় এনে সোশ্যাল সিকিউরিটি ও ট্যাক্স ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য। এতে যেমন পর্তুগালের শ্রমবাজার শক্তিশালী হচ্ছে, তেমনি অভিবাসীরাও পাচ্ছেন দীর্ঘমেয়াদী আইনি নিরাপত্তা।


