পর্তুগালের শ্রমবাজারে বইছে আনন্দের হাওয়া। নতুন বছরের শুরুতেই দেশটির সরকার জাতীয় সর্বনিম্ন মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণা কার্যকর করেছে। লুইস মন্টিনিগ্রোর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার এবং সামাজিক অংশীদারদের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শ্রমিকের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৬.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২৪ সালে পর্তুগালে সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ছিল ৮২০ ইউরো (বাংলাদেশি টাকায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৪৯ টাকা)। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তা বাড়িয়ে ৮৭০ ইউরো (বাংলাদেশি টাকায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার ৬১০ টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি মাসে একজন কর্মীর বেতন বেড়েছে সরাসরি ৫০ ইউরো।
পর্তুগালের মূল ভূখণ্ড ছাড়াও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলগুলোতে বেতনের হার কিছুটা ভিন্ন। যেমন, ‘মাদেইরা’-তে সর্বনিম্ন বেতন বাড়িয়ে করা হয়েছে ৯১৫ ইউরো (বাংলাদেশি টাকায ১ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা। ‘আজোরেস’ অঞ্চলে বেতন দাঁড়িয়েছে ৯১৩ দশমিক ৫০ ইউরো (বাংলাদেশি টাকায় ১ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা)।
সরকার কেবল ২০২৫ সালের জন্যই এই বৃদ্ধি সীমাবদ্ধ রাখেনি। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ২০২৮ সালের মধ্যে পর্তুগালের সর্বনিম্ন বেতনকে ১ হাজার ২০ ইউরো (বাংলাদেশি টাকায় ১ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা)-তে নিয়ে যাওয়া।
পরিকল্পনা অনুযায়ী পরবর্তী বছরগুলোতে সম্ভাব্য বেতন হবে, ২০২৬ সালে ৯২০ ইউরো (বাংলাদেশি টাকায় ১ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা)-ইতিমধ্যেই যা নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। ২০২৭ সালে ৯৭০ ইউরো (বাংলাদেশি টাকায় ১ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা)। ২০২৮ সাল ১ হাজর ২০ ইউরো (বাংলাদেশি টাকায় ১ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা )।
পর্তুগালে সাধারণত বছরে ১৪ মাসের বেতন দেওয়া হয় (১২ মাস বেতন ছাড়াও ক্রিসমাস বোনাস ও হলিডে বোনাস)। ২০২৫ সালের এই নতুন কাঠামোর ফলে একজন কর্মীর বার্ষিক মোট আয় হবে ১২ হাজার ১৮০ ইউরো (বাংলাদেশি টাকায় ১৭ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা)। এছাড়া সরকারের নতুন বাজেটে আরও কিছু সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, করমুক্ত খাবার ভাতার সীমা বাড়িয়ে প্রতিদিন ৬ দশমিক ৫০ ইউরো (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১ হাজার টাকা ) আর কার্ডে হলে ৯ দশমিক ১০ ইউরো (বাংলাদেশি টাকায় ১ হাজার ৩০৩ টাকা)করা হয়েছে। অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা বা ওভারটাইমের আয়ের ওপর ট্যাক্স বা উইথহোল্ডিং রেট ৫০শতাংশ কমানো হয়েছে। এছাড়া বার্ষিক মূল বেতনের ৬শতাংশ পর্যন্ত বোনাসকে করমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পর্তুগালে কয়েক হাজার বাংলাদেশি অভিবাসী কৃষি, পর্যটন এবং নির্মাণ খাতে কর্মরত। নতুন এই বেতন বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। বিশেষ করে যারা নূন্যতম বেতনে কাজ করেন, তাদের সঞ্চয়ের পরিমাণ আগের চেয়ে বাড়বে। তবে একই সাথে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বাড়ি ভাড়ার দিকেও নজর রাখতে হবে।
পর্তুগালের প্রেসিডেন্সি মন্ত্রী আন্তোনিও লেইতাও আমারো বলেন, এটি একটি ন্যায্য এবং গুরুত্বপূর্ণ বৃদ্ধি। যারা সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করেন, তাদের আয় বাড়ানো এবং সামাজিক বৈষম্য দূর করাই আমাদের লক্ষ্য।


