সম্প্রতি পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে আসন্ন সুনামির সতর্কবার্তা দিয়ে সাইরেন বাজানো হয়েছে। মূলত এটি ছিল একটি পরিকল্পিত মহড়া, যার উদ্দেশ্য ছিল বিশাল কোনো ঢেউ আছড়ে পড়ার আগে জনগণকে প্রস্তুত করা এবং শহরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষা করা।
লিসবনের মেয়র কার্লোস মোয়েদাস এবং পৌর বেসামরিক সুরক্ষা পরিষেবার তথ্যানুযায়ী, সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নাগরিকদের জন্য বিশেষ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
১. সাইরেন শুনলে আতঙ্কিত হবেন না
সাইরেনের শব্দ পাওয়ার অর্থ হলো আপনার হাতে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য কিছুটা সময় আছে। লিসবনের মেয়র জানান, প্রাথমিক সতর্কতা জারির প্রায় ৩৫ মিনিট পর সুনামির ঢেউ উপকূলে পৌঁছাতে পারে। তাই এই সময়ের মধ্যে শান্ত থেকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে রওনা হতে হবে।
২. নিরাপদ গন্তব্য নির্ধারণ
আপনি যদি লিসবনের নিচু এলাকা বা উপকূলীয় অঞ্চলের (যেমন- তেরেইরো দো পাসো) কাছাকাছি থাকেন, তবে দ্রুত উঁচুর দিকে অর্থাৎ রসসিও বা এর আশপাশের উঁচু এলাকাগুলোর দিকে চলে যেতে হবে। নিরাপদ নির্গমন পথের চিহ্ন অনুসরণ করা জরুরি।
৩. নির্দিষ্ট মিলনস্থল বা সেফ জোন
পৌরসভার তথ্যমতে, ভূমিকম্প ও সুনামির ক্ষেত্রে শহরজুড়ে বিভিন্ন প্যারিশে মোট ৮৬টি মিলনস্থল বা সেফ জোন নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্যোগের সময় নিকটস্থ মিলনস্থলে পৌঁছাতে সাধারণত ১৫ মিনিটের মতো সময় লাগতে পারে।
৪. সতর্কীকরণ পোস্টের অবস্থান
বর্তমানে লিসবনের কেন্দ্রস্থলে চারটি সুনামি সতর্কীকরণ পোস্ট রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই আরও ছয়টি পোস্ট স্থাপন করা হবে। এই পোস্টগুলো থেকে নিয়মিত আপডেট এবং দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
লিসবনে অবস্থানরত প্রবাসীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে, তারা যেন তাদের আবাসন এলাকার নিকটস্থ মিলনস্থলটি আগে থেকেই চিনে রাখেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া নিরাপত্তা মানচিত্রগুলো সংগ্রহে রাখেন।


