পর্তুগাল ইউরোপের এমন একটি দেশ যেখানে উচ্চশিক্ষিত এবং দক্ষ জনশক্তির একটি বড় অংশই নারী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটির দক্ষ কর্মীদের মধ্যে ৫৯.১% নারী, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। কিন্তু এই বিশাল নারী জনশক্তি থাকা সত্ত্বেও দেশটির করপোরেট ও প্রশাসনিক শীর্ষ পদগুলোতে তাদের উপস্থিতি হতাশাজনক। মাত্র ১৫.৭% নারী সিইও বা উচ্চপদস্থ নির্বাহী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা একে ‘কাঁচের দেয়াল’ বা প্রচ্ছন্ন বাধা হিসেবে দেখছেন, যা নারীদের মেধা থাকা সত্ত্বেও উপরে উঠতে দিচ্ছে না।
পর্তুগালের শ্রমবাজারে একটি বড় সমস্যা হলো পেশাগত বিভাজন। দেখা যাচ্ছে, দক্ষ নারীরা মূলত স্বাস্থ্য, সামাজিক সেবা এবং শিক্ষা খাতের মতো ক্ষেত্রগুলোতে বেশি কাজ করছেন। অন্যদিকে শিল্প, প্রযুক্তি এবং নির্মাণ খাতের মতো উচ্চ বেতনের জায়গাগুলোতে পুরুষদের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রয়েছে। এই বিভাজনের ফলে বেতনের ক্ষেত্রেও বড় ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে পর্তুগালে একজন পুরুষ গড়ে ১,৩৮৮ ইউরো আয় করলে একজন নারী পাচ্ছেন ১,১৮৩ ইউরো। অর্থাৎ, প্রতি মাসে একজন নারী ২০৫ ইউরো কম পাচ্ছেন, যা বৈষম্যের একটি স্পষ্ট চিত্র।
গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা মেধার স্বাক্ষর রাখলেও পারিবারিক পরিচর্যার গুরুভার তাদের ক্যারিয়ারের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। পর্তুগালে খণ্ডকালীন বা পার্ট-টাইম কাজ করা কর্মীদের প্রায় ৬৩ শতাংশই নারী। তাদের একটি বড় অংশই পরিবার ও সন্তান লালন-পালনের জন্য পূর্ণকালীন ক্যারিয়ার ত্যাগ করতে বাধ্য হন। বিপরীতে, পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার অনেক কম। এই সামাজিক ও পারিবারিক চাপই মূলত নারীদের বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে যাওয়ার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউরোপের শ্রমবাজারে নারীদের এই বাস্তবতা প্রবাসী বাঙালি নারীদের ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী বাঙালি নারীদের অনেকেই স্বাস্থ্যসেবা, সেবা খাত বা ছোট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের পরও ভাষা, নেটওয়ার্ক ও পারিবারিক দায়িত্বের মতো কারণে অনেকের পক্ষে শীর্ষ নেতৃত্বের পদে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।গবেষকদের মতে, নারীদের এই বিশাল মেধার সঠিক মূল্যায়ন করতে না পারলে পর্তুগাল তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি বড় সম্ভাবনা হারাবে।


