অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ এবং ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের মতো বিশ্বসেরা বিদ্যাপীঠে ভর্তির সুযোগ পেয়েও কেবল জাতীয়তার কারণে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারছেন না একদল মেধাবী শিক্ষার্থী। ব্রিটিশ সরকারের বিতর্কিত ‘ভিসা নিষেধাজ্ঞা’র বিরুদ্ধে এবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন সুদান ও আফগানিস্তানের ছয় শিক্ষার্থী। গত ৪ঠা মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ কর্তৃক ঘোষিত এক বিশেষ আদেশে আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার এবং সুদানের নাগরিকদের জন্য শিক্ষার্থী ভিসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ‘বর্ণবাদী’ ও ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে আইনি লড়াই শুরু করেছেন ওই শিক্ষার্থীরা।
আদালতে দাখিল করা নথিতে দেখা গেছে, এই ছয় শিক্ষার্থী চিকিৎসা ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন উচ্চতর বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী। সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই তারা যুক্তরাজ্যের নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে অফার লেটার পেয়েছিলেন। তাদের আইনজীবীদের দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল মেধাবীদের নিরুৎসাহিত করছে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক আইনেরও পরিপন্থী। বিশেষ করে আফগান নারীদের জন্য এই সিদ্ধান্ত এক ভয়াবহ অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যারা নিজ দেশে তালেবান শাসনের কারণে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে ব্রিটেনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন।
এদিকে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থানে অনড়। সরকারের দাবি, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই চার দেশের শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার হার অনেক বেশি বেড়েছে। অনেকেই শিক্ষার্থী ভিসাকে ব্রিটেনে স্থায়ী হওয়ার ‘পেছনের দরজা’ হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ লন্ডনের। তবে আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হলেও তাদের ওপর এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি, যা স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক। ২৬শে মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতের রায় কী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্বের হাজারো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী।


