রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘ চার বছর ধরে লড়াই করা ইউক্রেন এখন যুদ্ধের ময়দানে এক অনন্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। বিশেষ করে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ ড্রোন’ ধ্বংস করতে ইউক্রেন এতটাই দক্ষ হয়ে উঠেছে যে, এখন খোদ আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলো তাদের কাছে সাহায্য চাইছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ ১১টি দেশ ড্রোন মোকাবিলা এবং ‘ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার’ বা বৈদ্যুতিক যুদ্ধকৌশল শিখতে কিয়েভের সহায়তা চেয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যে ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে, রাশিয়ার সেনারা ইউক্রেনে ঠিক সেই একই ড্রোন ব্যবহার করছে। গত চার বছরে ইউক্রেন এই ড্রোনগুলো মাঝ আকাশেই অকেজো করে দেওয়ার গোপন কৌশল ও প্রযুক্তি আয়ত্ত করেছে। জেলেনস্কি জানান, জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো রক্ষা করতে ইতিমধ্যে তারা ড্রোন ধ্বংসকারী বিশেষজ্ঞ দল ও উন্নত যন্ত্রপাতি পাঠিয়েছেন।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এটি হলো রেডিও বা রাডার সিগন্যাল ব্যবহার করে শত্রুপক্ষকে অন্ধ করে দেওয়া। এর মাধ্যমে শত্রুর ড্রোনের জিপিএস বা মোবাইল নেটওয়ার্ক জ্যাম করে দেওয়া হয়, যাতে ড্রোনটি তার লক্ষ্য খুঁজে না পায় এবং মাঝপথেই ভেঙে পড়ে। ইউক্রেন এই প্রযুক্তিতে এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা। জেলেনস্কি মনে করেন, রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে তারা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা এখন পশ্চিমা দেশগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় অমূল্য সম্পদ হিসেবে কাজ করবে।


