জোহরান মামদানি ১৯৯১ সালে উগান্ডার কামপালায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে চলে আসেন। তিনি পড়াশোনা করেছেন দ্য ব্রঙ্কস হাই স্কুলল অব সায়েন্সে এবং পরে বোওডিন কলেজ থেকে আফ্রিকানা স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনৈতিক দর্শনে তিনি নিজেকে একজন “ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট” হিসেবে পরিচিত করেন এবং ২০২১ সাল থেকে নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর তিনি নিউ ইয়র্ক সিটির ১১১তম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি শহরের প্রথম মুসলমান মেয়র, প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র, এবং গত একশ বছরেরও বেশি সময় পর সবচেয়ে কনিষ্ঠ মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন।
জোহরান মামদানি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিক নির্বাচনে অংশ নেন এবং প্রাক্তন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো-কে পরাজিত করে পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত করেন।
পরবর্তীতে সাধারণ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। তার নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল ভাড়া স্থিতিশীল রাখা, পাবলিক ট্রানজিট ও বাস সেবা বিনামূল্যে করা, সর্বনিম্ন মজুরি বৃদ্ধি, এবং উচ্চ আয়ের নাগরিকদের ওপর কর বৃদ্ধি।
যদিও তরুণ ভোটার ও নতুন প্রজন্ম তার প্রতি ব্যাপক সমর্থন দিয়েছে, তবুও কিছু মহল তার অভিজ্ঞতার ঘাটতি এবং অতি প্রগতিশীল ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তাছাড়া তার মুসলিম পরিচয় এবং দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত পটভূমি নিয়েও কিছু গণমাধ্যম ও রাজনীতিক মহলে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মামদানির এই জয় নিউ ইয়র্ক সিটির রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। যেখানে বড় দল ও ধনী প্রার্থীদের প্রভাবের পরিবর্তে এখন গ্রাসরুটস আন্দোলন, তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং বহুসাংস্কৃতিক ঐক্য প্রাধান্য পাচ্ছে।

এদিকে ২০১৭ সালে মামদানি বিয়ে করেন তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী, আমেরিকান কবি ও লেখিকা কেটি ফিয়ারিকে। দুজনের পরিচয় হয়েছিল কলেজ জীবনে, পরে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ভালোবাসায় রূপ নেয়। রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যস্ততার মাঝেও তারা একে অপরের পাশে থেকেছেন সমর্থন ও শ্রদ্ধা নিয়ে। জোহরান প্রায়ই সামাজিক মাধ্যমে স্ত্রীর সাহিত্যচর্চা ও সমাজসচেতন কর্মকাণ্ড নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন। নিউইয়র্কের তরুণ প্রজন্মের কাছে তাদের সম্পর্ক এখন অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
জোহরান মামদানির জয় শুধু একজন ব্যক্তির নয় বরং এটি এক প্রজন্মের পরিবর্তনের বার্তা। তিনি দেখিয়েছেন, বিশাল অর্থ বা প্রভাব ছাড়াও মানুষের আস্থা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও দায়িত্বশীল রাজনীতি দিয়েও বড় জয় সম্ভব। এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা এবং নিউ ইয়র্ক সিটিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায্য ও মানবিক নগরীতে পরিণত করা।


