যুক্তরাজ্যের বিতর্কিত ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ প্রকল্পের আওতায় আশ্রয়প্রার্থীদের ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর সময় জোরপূর্বক কোমর ও পায়ে বেড়ি ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সোমবার প্রকাশিত ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রধান কারা পরিদর্শক চার্লি টেলরের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৬ই জানুয়ারি একটি ফ্লাইটে চারজন আশ্রয়প্রার্থীর ওপর বলপ্রয়োগ করা হয়, যার মধ্যে নথিপত্র অনুযায়ী তিনজনের ওপর কোমরের বিশেষ ‘রেস্ট্রেইন্ট বেল্ট’ ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি দুজনকে পুরো যাত্রাপথ জুড়ে এই বেড়ি পরে থাকতে হয়েছে এবং একজনকে বিমানে তোলার সময় পায়েও বেড়ি পরানো হয়েছিল।
পরিদর্শক চার্লি টেলর তাঁর প্রতিবেদনে জানান, বলপ্রয়োগের আশঙ্কায় অনেক আশ্রয়প্রার্থী চরম আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। বিশেষ করে যারা অতীতে নিজ দেশে নির্যাতন বা পাচারের শিকার হয়েছিলেন, তাঁদের ওপর এই ধরণের বলপ্রয়োগ পুনরায় মানসিক ট্রমার সৃষ্টি করছে। প্রতিবেদনে আটক কেন্দ্রে পর্যাপ্ত দোভাষীর অভাব এবং আইনজীবীদের সাথে যোগাযোগের সুযোগ না থাকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই চুক্তির আওতায় ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে আসা সমসংখ্যক আশ্রয়প্রার্থীকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়, যার বিনিময়ে ফ্রান্স থেকে সমসংখ্যক মানুষকে বৈধ উপায়ে যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসা হয়। ২১শে জানুয়ারির একটি ফ্লাইটে ৩২ জন ব্যক্তিকে এভাবেই ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অভিবাসীদের সহায়তাকারী সংস্থা ‘মেডিকেল জাস্টিস’-এর পরিচালক এমা গিন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে যাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে, তাঁদের অনেকের শরীরে অতীতে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তাঁদের ওপর বলপ্রয়োগ করা বা শিকল পরানো পুরোনো ভয়াবহ স্মৃতিকে উসকে দিচ্ছে, যা অত্যন্ত অমানবিক। অন্যদিকে, ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং নির্বাচনের পর থেকে প্রায় ৬০ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে সরানো হয়েছে। তবে তারা এও দাবি করেছে যে বন্দীদের মর্যাদা ও কল্যাণের বিষয়টি তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


