যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে ইমিগ্রেশন আইনের একটি মানবিক ধারাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে একদল অসাধু অভিবাসী। প্রকৃত পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষায় প্রণীত ‘মাইগ্র্যান্ট ভিকটিমস অফ ডোমেস্টিক অ্যাবিউজ কনসেশন’ এর অপব্যবহার করে মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে রেসিডেন্সি পাওয়ার এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে বিবিসির এক বিশেষ অনুসন্ধানে।
বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অনেক অভিবাসী পরিকল্পিতভাবে ব্রিটিশ নাগরিকদের বিয়ে করে যুক্তরাজ্যে আসার পর জীবনসঙ্গীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ আনছেন। এই জালিয়াতিতে সরাসরি মদত দিচ্ছে একদল অসাধু অভিবাসন পরামর্শদাতা। লন্ডনের জনৈক পরামর্শদাতা এলি সিসওয়াকা ছদ্মবেশী প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেছেন যে, মাত্র ৯০০ পাউন্ডের বিনিময়ে তিনি এমন নিখুঁত ‘মিথ্যা গল্প’ তৈরি করে দেবেন যা দিয়ে হোম অফিসকে ১০০ শতাংশ বোকা বানানো সম্ভব। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে এই ধারায় ৫,৫৯৬ জন আবেদন করেছেন, যা গত তিন বছরে ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, পুরুষের আবেদনের হার বেড়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ।
এই জালিয়াতির সবচেয়ে বড় বলি হচ্ছেন নিরীহ ব্রিটিশ নাগরিকরা। প্রতিবেদনে আয়েশা (ছদ্মনাম) নামের এক নারীর উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যার স্বামী উল্টো তার বিরুদ্ধেই নির্যাতনের ভুয়া অভিযোগ এনে ব্রিটেনে থেকে যাওয়ার বৈধতা পেয়েছেন। আইনজীবীদের মতে, হোম অফিসের দুর্বল তদন্ত প্রক্রিয়া এবং গভীর কোনো প্রমাণ ছাড়াই কেবল পুলিশ কেস নম্বর বা চ্যারিটি সংস্থার সাধারণ চিঠির ওপর ভিত্তি করে এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত অপরাধীরাও পার পেয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের সেফগার্ডিং মিনিস্টার জেস ফিলিপস এই জালিয়াতিকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যারা প্রতারণার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে থাকার চেষ্টা করবে, তাদের আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে। এছাড়া জালিয়াতির সাথে জড়িত আইনজীবীদের জেল এবং তাদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস কমিশনার জনসাধারণকে এই ধরণের প্রতারণা থেকে বাঁচতে কেবল নিবন্ধিত এবং বৈধ পরামর্শদাতাদের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।


