গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর ‘অভূতপূর্ব বেসামরিক হত্যা’ এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ইসরায়েলের বিদ্যমান অংশীদারিত্ব চুক্তি সম্পূর্ণ স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে ১০ লক্ষ ইউরোপীয় নাগরিক। ‘ইউরোপীয় নাগরিক উদ্যোগ’ এর অধীনে ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র থেকে সংগৃহীত এই বিপুল পরিমাণ স্বাক্ষর এখন ইউরোপীয় কমিশন ও ইউরোপীয় সংসদের কাছে পর্যালোচনার জন্য জমা দেওয়া হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সুনির্দিষ্ট দাবিতে ১০ লক্ষ স্বাক্ষর সংগৃহীত হলে কমিশন এবং সংসদকে সেই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্যায়ন ও প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়। ইউরোপীয় লেফট অ্যালায়েন্স, বিভিন্ন নাগরিক সমাজ এবং ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগে এই স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান পরিচালিত হয়। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, তারা ১৫ লক্ষ স্বাক্ষর সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছেন, যা যাচাই-বাছাইয়ের পর চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়া হবে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গাজায় হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর ওপর পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ, ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের আদেশ অনুযায়ী গণহত্যা প্রতিরোধে ব্যর্থতার জন্য ইসরায়েল দায়ী। এই প্রেক্ষাপটে ২০০০ সালে কার্যকর হওয়া ইইউ-ইসরায়েল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তিটি স্থগিত করা এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে ইইউ হলো ইসরায়েলের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার, যাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৪২.৬ বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে গেছে।
তবে এই উদ্যোগটি বাস্তবে কতটুকু কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যদিও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন গাজায় ‘মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ’ এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাধাগ্রস্ত করার কারণে এই চুক্তির আংশিক স্থগিতাদেশের প্রস্তাব করেছিলেন, কিন্তু সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণে তা থমকে গেছে। বিশেষ করে জার্মানি, হাঙ্গেরি এবং চেক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলো ইসরায়েলের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা বা চুক্তি স্থগিতের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। ফলে প্রয়োজনীয় বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় কূটনীতিকরা এই মূহুর্তে কোনো কঠোর পদক্ষেপের সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন।


