ইউরোপীয় ইউনিয়নের নবপ্রবর্তিত এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম কার্যকর করতে গিয়ে ইতালির মিলান লিনেট বিমানবন্দরে সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা। এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে ম্যানচেস্টারগামী একটি ফ্লাইটের শতাধিক যাত্রীকে বিমানবন্দরে রেখেই বিমানটি উড্ডয়ন করতে বাধ্য হয়। এই ঘটনার শিকার হয়ে লিডস থেকে আসা হিউম পরিবারকে বাড়ি ফিরতে অতিরিক্ত প্রায় ১,৬০০ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লাখ টাকার বেশি) ব্যয় করতে হয়েছে।
লিডসের বাসিন্দা ৫৬ বছর বয়সী ম্যাক্স হিউম তাঁর স্ত্রী ও ১৩ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে স্কি রিসোর্ট থেকে ফিরে মিলান বিমানবন্দরে পৌঁছান। ইজিজেট কর্তৃপক্ষের পরামর্শ মেনে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার ফরমালিটির জন্য তারা নির্ধারিত সময়ের ৩ ঘণ্টা আগেই টার্মিনালে উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্তু বিমানবন্দরের পাসপোর্ট কন্ট্রোলে ইইউ-র নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার ধীরগতির কারণে দীর্ঘ সময় লাইনে আটকে থাকতে হয় তাঁদের। চোখের সামনেই তাঁদের নির্ধারিত বিমানটি শতাধিক যাত্রী ছাড়াই চলে যায়।
ভুক্তভোগী ম্যাক্স হিউম জানান, এই অবস্থায় এয়ারলাইন কর্মীদের সাহায্য চাইলে উল্টো ৫ দিন পরের ফ্লাইটে বুকিংয়ের জন্য জনপ্রতি বাড়তি ১১০ পাউন্ড দাবি করা হয়। নিরুপায় হয়ে তাঁরা লুক্সেমবার্গ হয়ে কানেক্টিং ফ্লাইটে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে ১,৬০০ পাউন্ডের বেশি আর্থিক ক্ষতি হয় তাঁদের। অসহায় বোধ করা এই পর্যটক ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’-কে বলেন, “আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। এই বিশৃঙ্খলার কারণে আমি কেবল শারীরিকভাবে বিধ্বস্ত নই, আর্থিকভাবেও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছি।”
সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ইইউ-এর এই নতুন এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেমে সেনজেনভুক্ত দেশে প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় যাত্রীদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ ও ডিজিটাল রেকর্ড রাখা হচ্ছে। তবে অনেক বিমানবন্দরের পরিকাঠামো এই নতুন চাপ সামলানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত না থাকায় দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে এবং যাত্রীরা নিয়মিত ফ্লাইট মিস করছেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা বাড়ছে।


