বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইউরোপীয় কমিশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে আশ্রয়ের আবেদন আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা গত এক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশনের হিসাব বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মধ্য ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ইইউর ২৭টি দেশ, পাশাপাশি নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডে মোট ৭ লাখ ৮০ হাজার ২০০টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছে। বার্তা সংস্থা ডিপিএ এ তথ্য জানিয়েছে। এই পরিসংখ্যানে প্রথমবার আশ্রয়ের আবেদন এবং একবার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর পুনরায় করা আবেদন, দুই ধরনের আবেদনই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এক বছরে আবেদনের পরিসংখ্যান

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে আশ্রয়ের মোট আবেদন সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় এক পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ কম।বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা থেকে আগত শরণার্থীর সংখ্যা কমে আসা এবং ইইউর সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি আরোপ, এই দুই বিষয়ই এই পতনের প্রধান কারণ। ইউরোপীয় কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশেষ করে সিরীয় নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন কমে যাওয়ায় সামগ্রিক সংখ্যায় বড় প্রভাব পড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিরিয়ায় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অনেক সিরীয় শরণার্থী ইউরোপে নতুন করে আবেদন না করে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা পর্যবেক্ষণ করছে।

সবচেয়ে বড় পতন

ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আশ্রয় আবেদন কমার চিত্র সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে জার্মানিতে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জার্মানিতে প্রথমবার আশ্রয়ের আবেদন ৫১ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে প্রথমবার আশ্রয়ের জন্য মোট ১ লাখ ১৩ হাজার ২৩৬টি আবেদন জমা পড়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। তবে প্রথমবার ও পুনরায় আবেদন, দুই মিলিয়ে জার্মানিতে মোট আবেদন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ১০০টি।

ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালির অবস্থান

আশ্রয় আবেদন সংখ্যার দিক থেকে জার্মানির পরেই রয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে ২০২৫ সালে মোট ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬০০টি আবেদন জমা পড়েছে। তালিকার তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে স্পেন এবং ইতালি। স্পেনে আবেদন জমা পড়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩০০টি, আর ইতালিতে আবেদন জমা পড়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৮০০টি। বিশ্লেষকদের মতে, ভূমধ্যসাগরীয় রুট দিয়ে আগত অভিবাসীদের সংখ্যা কমে আসা এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইইউর নতুন প্রত্যাবাসন ও সীমান্ত সহযোগিতা চুক্তি এই দেশগুলোর পরিসংখ্যানে প্রভাব ফেলেছে।

স্বস্তিতে ইইউ কমিশন

আশ্রয় আবেদন কমে আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিবাসন বিষয়ক ইইউ কমিশনার মাগনুস ব্রুনার। তিনি বলেন…

ইউরোপীয় অভিবাসন নীতির দৃষ্টিকোণ থেকে ২০২৫ সাল একটি ভালো বছর। তার মতে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং উৎস দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ, এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করায় অনিয়মিত অভিবাসন কমানো সম্ভব হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সতর্কতা

তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে…

আশ্রয় আবেদন কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে বিশ্বে সংকট কমে গেছে।

অনেক ক্ষেত্রে কঠোর নীতির কারণে প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীরা আবেদন করতেই পারছেন না, এমন অভিযোগও উঠছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ সালে ইইউর নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হলে আশ্রয় ব্যবস্থায় আরও পরিবর্তন আসতে পারে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version