বৃহস্পতিবার, ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬   |   ৩০ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে নতুন করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করায় ইউরোপের আটটি দেশের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ঘোষণানুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে এসব দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে।

নতুন শুল্ক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো হলো, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড। এই দেশগুলো গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে বলে দাবি ট্রাম্প প্রশাসনের।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ ও সম্পূর্ণ ক্রয় সংক্রান্ত কোনো চুক্তি স্বাক্ষর না হয়, তবে ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, গ্রিনল্যান্ড কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের মৌলিক নীতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ক্ষমতা দখলের হুমকির প্রতিবাদে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক-এ শনিবার শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। শূন্য ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রা, বৃষ্টি ও বরফে জমাট বাঁধা রাস্তায়ও তারা স্বশাসনের পক্ষে মিছিল করে।

মিছিলকারীরা লাল-সাদা জাতীয় পতাকা নাড়িয়ে ঐতিহ্যবাহী গান গাইতে গাইতে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় পদযাত্রা করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, আমরাই আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলেছি, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়, গ্রিনল্যান্ড আগেই মহান। ডেনমার্কের মূল ভূখণ্ডসহ রাজ্যজুড়ে হাজারো মানুষ একই ধরনের সংহতি সমাবেশে অংশ নেয়।

গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রের অংশ। আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত এই দ্বীপটি ভূরাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে রয়েছে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ, বিরল খনিজ, তেল ও গ্যাসের সম্ভাবনা। পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলতে থাকায় নতুন সামুদ্রিক রুট ও সামরিক কৌশলগত গুরুত্বও বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের পেছনে মূল কারণ হলো, আর্কটিকে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব ঠেকানো, সামরিক ঘাঁটি ও নজরদারি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ।

ইউরোপীয় দেশগুলো এই শুল্ক আরোপকে “চাপ প্রয়োগের কৌশল” হিসেবে দেখছে। কূটনৈতিক মহলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া বা প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগেও গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা তখন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি আবারও বলেন, গ্রিনল্যান্ড যদি আমেরিকার হাতে না থাকে, তবে তার চেয়ে কম কিছুই গ্রহণযোগ্য হবে না। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর করেছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version