সোমবার, ২রা নভেম্বর, ২০২৬   |   ১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাব্যবস্থার অবনতি ও সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় দেশজুড়ে ৫৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল বিকেল পর্যন্ত অধিকাংশ বিক্ষোভ মিছিল শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে প্যারিসে মিছিলের শেষ দিকে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে অভিযান চালায় পুলিশ। লিওঁ ও তুলুজ শহরেও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে নিরাপত্তা বাহিনী। মার্সেই শহরেও মিছিলের শেষ দিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।

গত ১৭ অক্টোবর দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনার পর টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিক্ষোভ হলো ফ্রান্সে। ওই দিন দেশজুড়ে বিভিন্ন দোকান, সরকারি ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। তবে আগের দুই শনিবারের তুলনায় এবার বিক্ষোভকারীর সংখ্যা কম ছিল। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গতকাল দেশজুড়ে ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

বিক্ষোভের বিষয়ে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, ‘যারা আজ (শনিবার) রাতে সংঘর্ষে জড়াতে চায়, তাদের মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত। কঠোরভাবে জবাব দেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ থেকে ৫৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া চার পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

হ্যালোইন উৎসবের মধ্যেই গতকাল এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। প্যারিসের বিক্ষোভকারী জেরোম রদ্রিগেজ বলেন, ‘যা-ই ঘটুক না কেন, ফ্রান্সের অর্থনীতির অবস্থা খারাপ। কারণ, এখন দেশ পরিচালনা করছে একদল অযোগ্য মানুষ। তারা কোটি কোটি ইউরোর হিসাব-নিকাশ করছে, অথচ সাধারণ পরিবারগুলো সামান্য কয়েক সেন্টের জন্য হিমশিম খাচ্ছে।’

ফ্রান্সের শিক্ষাব্যবস্থার ক্রমাবনতি, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি–পদ্ধতির বিরুদ্ধে প্রথমে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা। নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনও। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে তারাও আন্দোলনে শামিল হন।

প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সরকারের জন্য সংবেদনশীল এক সময়ে দেশজুড়ে এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ফিচ অপ্রত্যাশিতভাবে ফ্রান্সের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ করেছে। এতে দেশটির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে।

ফ্রান্সের সরকারি ঋণের পরিমাণ দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১২০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ঋণ নেওয়ার খরচও বাড়ছে। এ অবস্থায় সরকারি ব্যয় কমানোর চাপের মুখে রয়েছে মাখোঁর সরকার। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের হাতে বিকল্পও কমে আসছে।

এদিকে ফ্রান্সের এই বিক্ষোভ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরুণদের, বিশেষ করে জেন-জিদের আন্দোলনে উৎসাহ জুগিয়েছে। গতকাল জার্মানির কয়েকটি শহরেও বিক্ষোভ হয়েছে। ইতালিতেও রাস্তায় নেমেছেন বিক্ষোভকারীরা। এদিকে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন দোকানে লুটপাট চালিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version