সোমবার, ২রা নভেম্বর, ২০২৬   |   ১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতালিতে আশ্রয়প্রার্থীদের সরকারি সাক্ষাৎকারে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল অনুবাদ করে তাঁদের আবেদন প্রত্যাখ্যানের পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৩৭ বছর বয়সী এক দোভাষীকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দোভাষী পরিকল্পিতভাবে সাক্ষাৎকারের প্রশ্ন ও উত্তর বিকৃত করে অনুবাদ করতেন। এতে আশ্রয়প্রার্থীদের বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ বদলে যেত এবং তাঁদের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতো।

বৃহস্পতিবার ইতালির সংবাদমাধ্যম আদনক্রোনোসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে আটক ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি ইতালির সিরাকুজা শহরের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা স্বীকৃতিবিষয়ক আঞ্চলিক কমিশনে বাংলা ভাষার দোভাষী হিসেবে কাজ করতেন। আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের সময় কমিশনের কর্মকর্তা ও আবেদনকারীদের মধ্যে কথোপকথন অনুবাদ করতেন তিনি। এ দায়িত্ব পালনের সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতেন।

তদন্তে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে সাক্ষাৎকারের বক্তব্য বিকৃত করে অনুবাদ করছিলেন ওই দোভাষী। শুধু আশ্রয়প্রার্থীদের উত্তরই নয়, কমিশনের কর্মকর্তাদের প্রশ্নও পরিবর্তন করে কার্যবিবরণীতে তুলে ধরতেন তিনি।

অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ দেওয়া হতো। এমনকি তাঁরা কখনো বলেননি, এমন বক্তব্যও তাঁদের নামে নথিভুক্ত করা হতো।

এভাবে সাক্ষাৎকারের প্রকৃত বক্তব্য সম্পর্কে কমিশনের কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করা হতো বলে তদন্তকারীদের ধারণা। এর ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন তাঁদের বিপক্ষে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতো।

সিরাকুজা প্রসিকিউটর অফিসের নির্দেশে কারাবিনিয়েরি পুলিশের অপারেশনাল ইউনিট ঘটনাটির তদন্ত করে। তদন্তের পর সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় সরকারি নথিতে মিথ্যা তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে ওই দোভাষীর বিরুদ্ধে আটকাদেশ জারি করা হয়।

পরে আদালত আটকাদেশ অনুমোদন করে তাঁকে ইলেকট্রনিক ব্রেসলেট পরিয়ে গৃহবন্দি রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাসকারী পরিবারের সদস্য ও তাঁর আইনজীবী ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে কোনো মাধ্যমে যোগাযোগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশি কমিউনিটির কয়েকজন সদস্য জানান, আশ্রয়প্রার্থীদের সরকারি সাক্ষাৎকারে অনুবাদের দায়িত্ব পালনকারী কিছু দোভাষীর বিরুদ্ধে অর্থ দাবি করার অভিযোগও শোনা যায়। তাঁদের অভিযোগ, চাহিদামতো অর্থ না দিলে সঠিকভাবে অনুবাদ করা হয় না।

আটক দোভাষীর ঘটনার পেছনেও এ ধরনের কোনো বিষয় থাকতে পারে বলে তাঁদের ধারণা। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আটক দোভাষীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version