কাভাদো নদীর দূষণ রোধে পর্তুগালের বার্সেলোস পৌরসভা ৩ কোটি ৫৪ লাখ (৩৫.৪ মিলিয়ন) ইউরো ব্যয়ে একটি নতুন বর্জ্য পানি শোধনাগার (ডব্লিউডব্লিউটিপি) নির্মাণের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করেছে। সরকারি গেজেট ‘দিয়ারিও দা রিপাবলিকায়’ প্রকাশিত এক ঘোষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ২৩ অক্টোবরের মধ্যে তাদের প্রস্তাব জমা দিতে হবে। ঠিকাদারকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইট বুঝিয়ে দেওয়ার তারিখ থেকে শুরু করে ৯১০ দিনের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বার্সেলোস পৌরসভা জানিয়েছে, কাভাদো নদীর দূষণ কমানোর জন্য এটি তাদের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ’।
বার্সেলোস প্যারিশে নির্মিত হতে যাওয়া নতুন এই শোধনাগারটি ১৯৯৯ সাল থেকে চালু থাকা বর্তমান পুরোনো প্ল্যান্টটিকে প্রতিস্থাপন করবে। বর্তমান সুবিধাটি সম্পর্কে পৌরসভা জানিয়েছে, এটি এখন ‘প্রযুক্তিগতভাবে অচল এবং পৌরসভার জনসংখ্যাগত, শহুরে ও শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধির চাপ সামলানোর ক্ষমতা এর সীমিত।’
পৌরসভার ভাষ্যমতে, ‘বর্তমান সুবিধাটির প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে বর্জ্য পানির অপর্যাপ্ত পরিশোধন হচ্ছে এবং ফলস্বরূপ স্থানীয় জলাশয়গুলো দূষিত হয়ে জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে।’ এই কারণেই পানীয় জল, বর্জ্য পানি এবং স্টর্মওয়াটার স্যানিটেশন সংক্রান্ত কৌশলগত পরিকল্পনা (PENSAARP 2030)-এ একটি নতুন ডব্লিউডব্লিউটিপি নির্মাণকে ‘গুরুতর পরিবেশগত দায়বদ্ধতা দূর করার ক্ষেত্রে শীর্ষ অগ্রাধিকার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নতুন এই শোধনাগারে কেবল বাসাবাড়ির বর্জ্য পানিই নয়, বরং পৌরসভার টেক্সটাইল বা বস্ত্রশিল্পের কারণে তৈরি হওয়া দূষণও পরিশোধন করা হবে। প্ল্যান্টটি চালু হলে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ এই নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে এবং সরাসরি এর সুফল পাবে।
ব্রাগা জেলার এই পৌরসভা জানিয়েছে, এই প্রকল্পের অন্যতম বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ হলো—এখানে আসা বর্জ্য পানির প্রায় ৩৫ শতাংশই মূলত টেক্সটাইল খাতের (ডাইং বা রঙ করার কারখানা) শিল্প বর্জ্য, যাতে এমন কিছু রং ও জৈব যৌগ থাকে যা ভাঙানো অত্যন্ত কঠিন এবং এর জন্য উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়।
পৌরসভা ব্যাখ্যা করে জানায়, ‘নির্বাচিত প্রযুক্তিটি বর্জ্য পানি থেকে দূষণ দূর করতে উপকারী অণুজীব ব্যবহার করবে, যা দীর্ঘস্থায়ী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আরও দক্ষ পরিশোধন নিশ্চিত করে। এই সিস্টেমটি অতিরিক্ত কোনো সরঞ্জামের প্রয়োজন ছাড়াই নাইট্রোজেনের মতো ক্ষতিকারক যৌগগুলো অপসারণ করতে সক্ষম।’
জৈবিক এই ধাপের পর পানি অতিরিক্ত পরিশোধনের জন্য অতি-সূক্ষ্ম ফিল্টার এবং ওজোন প্রয়োগের মধ্য দিয়ে যাবে, যাতে টেক্সটাইল শিল্পের বর্জ্যের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পানির রঙ এবং দীর্ঘস্থায়ী দূষকগুলো দূর করা যায়। বার্সেলোস পৌরসভা জোর দিয়ে বলেছে, ‘এটি কাভাদো নদীর জন্য আইনি পানির গুণগত মান বজায় রাখা নিশ্চিত করবে।’
নতুন এই বর্জ্য পানি শোধনাগারটি কম বিদ্যুৎ খরচের উপযোগী করে ডিজাইন করা হয়েছে। এতে দক্ষ অ্যারোরেটর এবং মোটর থাকবে যা কেবল প্রয়োজন হলেই সচল হবে। এ ছাড়া জ্বালানি স্বনির্ভরতা অর্জন করতে প্ল্যান্টটি সোলার প্যানেল এবং পরিশোধিত পানির আউটলেটে অবস্থিত একটি ছোট জলবিদ্যুৎ ইউনিটের মাধ্যমে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।
পরিবেশবান্ধব এই পদক্ষেপে শোধিত পানি পুনরায় ব্যবহার, বর্জ্য প্রবাহ থেকে অপসারিত বালুর পুনঃব্যবহার এবং ভাঙা বা ধ্বংস হওয়া সামগ্রী নতুন কাজে লাগানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
