মঙ্গলবার, ২৭ই অক্টোবর, ২০২৬   |   ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে এবার অপেক্ষা করতে হতে পারে ১৫ বছর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের এমন প্রস্তাব ঘিরে বিভাজন বাড়ছে মন্ত্রিসভায়। প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছেন একাধিক মন্ত্রী। এবার প্রস্তাবটির প্রতি সরাসরি সমর্থন জানানো এড়িয়ে গেলেন জ্বালানিমন্ত্রী মিয়াত্তা ফানবুলেহ। এতে অভিবাসননীতি নিয়ে নতুন করে অস্বস্তিতে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সরকার।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এদিন স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাবানার প্রস্তাব নিয়ে বারবার প্রশ্ন করা হয় ফানবুলেহকে। তবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে ১৫ বছর অপেক্ষার শর্তটি তিনি সমর্থন করেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট উত্তর দেননি।

বর্তমানে ব্রিটেনে সাধারণত পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাসের পর নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদন করা যায়। প্রস্তাবিত সংস্কারে সাধারণ সময়সীমা বাড়িয়ে ১০ বছর করার কথা রয়েছে। স্বল্প বেতনের নির্দিষ্ট কিছু পেশায়, বিশেষ করে বিদেশি পরিচর্যাকর্মীদের ক্ষেত্রে, এ অপেক্ষা ১৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে। ২০২১ সাল থেকে ব্রিটেনে আসা কর্মীদের ওপরও নতুন নিয়ম কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফানবুলেহ বলেন, ‘আমাদের অভিবাসনব্যবস্থা সংস্কার করতেই হবে। তবে এর ভিত্তি হওয়া উচিত সহমর্মিতা ও অবদানের স্বীকৃতি।’

লাইবেরিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে শৈশবে ব্রিটেনে আশ্রয় নিয়েছিলেন ফানবুলেহ। নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, অভিবাসীদের সমাজের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রতি তাঁদের অবদানকেও সম্মান জানাতে হবে।

শাবানার প্রতি পূর্ণ সমর্থনের কথা অবশ্য জানিয়েছেন ফানবুলেহ। তিনি বলেন, ‘শাবানা মাহমুদ এবং তিনি যা করতে চাইছেন, তার প্রতি আমার শতভাগ সমর্থন রয়েছে।’ তবে ১৫ বছরের শর্তটি সমর্থন করেন কি না, জানতে চাইলে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমার মুখে কথা বসাবেন না।’

এর আগে নিজের নির্বাচনী এলাকার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবরণেও দীর্ঘ অপেক্ষার সমালোচনা করেছিলেন ফানবুলেহ। সেখানে বলা হয়েছিল, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে অপেক্ষার সময় বাড়ালে সামাজিক সংহতি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াও দীর্ঘায়িত হতে পারে। পরে লেখাটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তাঁর দপ্তরের দাবি, বক্তব্যটি যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।

শুধু ফানবুলেহ নন, প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছেন আবাসনমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনারও। তাঁর মতে, ব্রিটেনের অসহায় মানুষের সেবায় নিজেদের জীবন বদলে যাঁরা এ দেশে এসেছেন, কয়েক বছর পর তাঁদের জন্য নিয়ম পাল্টে দেওয়া অন্যায্য। তবে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মন্ত্রিসভায় বিভাজনের অভিযোগ নাকচ করার চেষ্টা করেন তিনি। রেইনার আশা প্রকাশ করেন, শেষ পর্যন্ত করদাতা ও অভিবাসী—উভয়ের জন্য ন্যায্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম সংস্কারের মূলনীতির প্রতি সমর্থন জানালেও পরিচর্যাকর্মীদের জন্য ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের আশঙ্কা, ছাড় দেওয়া হলে অনেক বিদেশি কর্মী পরিচর্যা খাত ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে পারেন।

ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির শতাধিক সংসদ সদস্যও পরিকল্পনাটি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। চাপের মুখে প্রস্তাব শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন শাবানা। তবে সরকারের বক্তব্য, স্থায়ী বসবাসের অধিকার স্বয়ংক্রিয় নয়; এটি অর্জন করতে হবে। জনপরামর্শের ফল পর্যালোচনা করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এখনও আইন হয়নি প্রস্তাবটি, তবে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে, ব্রিটেনের হাসপাতাল, পরিচর্যাকেন্দ্র ও অন্যান্য কর্মক্ষেত্র সচল রাখতে বছরের পর বছর অবদান রাখা মানুষদের ভবিষ্যৎ আরও এক দশক অনিশ্চয়তায় রেখে কি সত্যিই সামাজিক সংহতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব?

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version