ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়েছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে…
তাদের পালাতে সহায়তার অভিযোগে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে দুই ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে সে দেশের পুলিশ।
আজ রোববার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি জানায়, হত্যাকাণ্ডটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে তাদের পলায়ন রুট শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর ফয়সাল ও আলমগীর সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে আমিনবাজার এবং পরে কালামপুর হয়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় পৌঁছান। সেখানে ফিলিপ পাল ও সঞ্জয় নামের দুই পাচারকারী তাদের অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে নিয়ে যান। মেঘালয়ের তুরা নামক স্থানে পৌঁছানোর পর পূর্তি ও সামী নামের দুই ভারতীয় নাগরিক তাদের আশ্রয় ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দেয়। ভারতীয় পুলিশ এই দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করলেও মূল আসামিরা বর্তমানে গা ঢাকা দিয়ে আছেন।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন…
এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে এটি একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। নেপথ্যের অনেককেই শনাক্ত করা হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৬ জন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। ৪ জন সাক্ষীও জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় হাদিকে লক্ষ্য করে মাথায় গুলি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গত রোববার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে স্মরণকালের বৃহত্তম জানাজা শেষে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবির সমাধির পাশে দাফন করা হয়।
এদিকে হাদির খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ বেলা দুইটা থেকে সারা দেশের বিভাগীয় শহরগুলোয় সর্বাত্মক অবরোধ পালনের ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শুরুতে সকাল ১১টায় কর্মসূচি থাকলেও ডিএমপির সংবাদ সম্মেলন পর্যালোচনার পর সময় পরিবর্তন করে দুপুর দুইটা নির্ধারণ করা হয় বলে জানিয়েছেন মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
