ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শনিবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এই সিদ্ধান্ত জানান।
ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আজমল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচন বিধি অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে মোট ভোটারের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক (১ শতাংশ) ভোটারের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। তাসনিম জারার ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটিতে ত্রুটি পাওয়া গেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, প্রয়োজনীয় ৪ হাজার ৩০০ ভোটারের স্বাক্ষরের সংখ্যা ঠিক ছিল। তবে দৈবচয়ন ভিত্তিতে যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, প্রস্তাবক ও সমর্থক হিসেবে নাম দেওয়া ১০ জনের মধ্যে ২ জন ঢাকা-৯ আসনের ভোটার নন। নির্বাচন বিধি অনুযায়ী প্রস্তাবক ও সমর্থককে সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটার হতে হয়, যা না মানায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাসনিম জারার আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
পরে সাংবাদিকদের তাসনিম জারা বলেন…
ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু ইসিতে সেটা গৃহীত হয়নি। ইতোমধ্যেই আপিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছি।
তাসনিম জারা এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ছিলেন। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোট গঠন নিয়ে দলের ভেতরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সেই জেরে দল ত্যাগ করে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন ৩১ বছর বয়সী এই চিকিৎসক।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী তাসনিম জারার পেশা ও সম্পদ বিবরণীতে পেশা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে চিকিৎসক, শিক্ষক ও উদ্যোক্তা। বার্ষিক আয় দেশীয় উৎস (চাকরি) থেকে ৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং দেশের বাইরে থেকে ৩ হাজার ২০০ ব্রিটিশ পাউন্ড। অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছে মোট ২২ লাখ ৩০ হাজার ১৯০ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে, নগদ ১৬ লাখ টাকা। বৈদেশিক মুদ্রা (২,২৭০ পাউন্ড) প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ব্যাংক জমা ১০ হাজার ১৯০ টাকা। সোনা ও অন্যান্য ধাতু ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। হলফনামায় তার কোনো স্থাবর সম্পদের কথা উল্লেখ নেই। এছাড়া ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তিনি ৩৪ হাজার ৫৭ টাকা আয়কর দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন।
হলফনামায় তাসনিম জারা তার স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহকে নির্ভরশীল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পেশায় উদ্যোক্তা খালেদ সাইফুল্লাহর দেশের ভেতরে কোনো আয় নেই। তবে দেশের বাইরে থেকে তার বার্ষিক আয় ৩৫ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড এবং শেয়ার ও ব্যাংক আমানত থেকে আরও ৪ হাজার ৮০০ ব্রিটিশ পাউন্ড আয় হয়।
