সোমবার, ৩০ই মার্চ, ২০২৬   |   ১৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পে বড় ধরনের কাঁচামাল সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল বাজারের অস্থিরতায় ওষুধের প্রধান উপকরণ বা এপিআই এর দাম গড়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত ‘এশিয়া ফার্মা এক্সপো ২০২৬’-এ অংশ নেওয়া শিল্প মালিক ও আমদানিকারকেরা এই উদ্বেগের কথা জানান। যদিও বর্তমানে কোম্পানিগুলোর কাছে ৩ থেকে ৬ মাসের মজুত রয়েছে, তবে যুদ্ধ এক থেকে দুই মাসের বেশি স্থায়ী হলে দেশের বাজারে ওষুধের সরবরাহ ও মূল্যে বড় প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই)-এর সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার থেকে বেড়ে ১২০ ডলারে পৌঁছানোয় কেমিক্যাল ও উৎপাদন উপকরণের খরচ অস্বাভাবিক বেড়েছে। বর্তমানে জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হচ্ছে, যা ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ওষুধের কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘বিবিকন’-এর এমডি ডি.এইচ. শামীম সতর্ক করে বলেন, কাঁচামালের দাম বাড়লেও ওষুধের খুচরা মূল্য অপরিবর্তিত থাকায় অনেক কোম্পানি এখন লোকসানের মুখে পড়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এই ক্ষতি সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।

এদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ভারত ও চীনের বাইরে বিকল্প উৎস খোঁজার নির্দেশনা দেওয়া হলেও বিএপিআই-এর মহাসচিব ডা. মোহাম্মদ জাকির হোসেন একে ‘সময়সাপেক্ষ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, নতুন কোনো উৎস থেকে কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সাধারণত ৯ থেকে ১৪ মাস সময় লাগে। এছাড়া পেট্রোকেমিক্যাল নির্ভর কাঁচামালের জন্য বিশ্ব এখনো মূলত চীন ও ভারতের ওপর নির্ভরশীল। উল্লেখ্য যে, তিন দিনব্যাপী এই এশিয়া ফার্মা এক্সপোতে ২০টি দেশের ৪০০-এর বেশি প্রদর্শক অংশ নিয়েছেন, যেখানে বৈশ্বিক সংকটের এই সময়ে ওষুধ শিল্পের টিকে থাকার প্রযুক্তি ও কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version