যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী আব্দুল আল-সাঈদ। দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে মার্কিন সিনেটের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
সারা দেশে একচেটিয়া জয় ও বেশ কয়েকটি অপ্রত্যাশিত ফলাফলের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ—সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টি।
চমকপ্রদ এই জয়ের ধারাবাহিকতায় টেক্সাস, আইওয়া, ওহাইও, সাউথ ক্যারোলাইনা এমনকি ক্যানসাসেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। ক্যানসাসে ১৯৩২ সালের পর এবারই প্রথম ডেমোক্রেটিক পার্টির কোনো প্রার্থী সিনেটর নির্বাচিত হলেন।
মিশিগানে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর দেওয়া ভাষণে আল-সাঈদ বলেন, করদাতাদের অর্থ অন্য দেশের শিশুদের ওপর বোমা ফেলার কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘আমেরিকার মহত্ত্ব আমাদের ত্রুটিগুলো এড়িয়ে যাওয়ার মধ্যে নয়; বরং সেগুলো সংশোধনের সাহসের মধ্যেই নিহিত।’
সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা আমাকে আপনাদের ঘরে, গির্জায় ও সিনাগগে সাদরে গ্রহণ করেছেন।’
মিশিগানের বড় শহর থেকে শুরু করে ছোট ছোট জনপদ পর্যন্ত দেড় বছর ধরে চালানো নির্বাচনি প্রচারণায় গড়ে ওঠা গণআন্দোলনকে নিজের জয়ের কৃতিত্ব দিয়েছেন আল-সাঈদ। নির্বাচনি প্রচারণার সবচেয়ে কঠিন সময়ে ভোটাররাই তাকে মনোবল ও শক্তি জুগিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
নির্বাচনি প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ তার প্রতিদ্বন্দ্বী ও সমালোচকেরা আল-সাঈদের বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও প্রচার চালান। তার নাম ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে নিয়মিত কটাক্ষ করা হয়। এমনকি ট্রাম্প তাকে ‘জিহাদি’ বলেও আখ্যা দেন।
আল-সাঈদের কাছে পরাজিত মাইক রজার্স সাবেক কংগ্রেস সদস্য এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। এর আগে ২০২৪ সালের সিনেট নির্বাচনেও ডেমোক্রেটিক প্রার্থী এলিসা স্লটকিনের কাছে মাত্র ০.৩ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে হেরেছিলেন রজার্স।
এবারের নির্বাচনে রজার্সের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ওয়েইন কাউন্টির সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক আল-সাঈদ। বছরের শুরুতে দলীয় প্রাথমিক বাছাইয়ে (প্রাইমারি) ডেমোক্রেটিক পার্টির মূলধারার পছন্দের প্রার্থী হ্যালি স্টিভেনসকে অপ্রত্যাশিতভাবে হারিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।
নির্বাচনি প্রচারণায় সবার জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচির পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন আল-সাঈদ। পাশাপাশি ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধেরও দাবি জানান তিনি।
২০১৫ সাল থেকে মিশিগানের এই আসনে দায়িত্ব পালন করে আসা বিদায়ী ডেমোক্রেটিক সিনেটর গ্যারি পিটার্সের স্থলাভিষিক্ত হতেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আল-সাঈদ ও রজার্স।
দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই আল-সাঈদকে আক্রমণ করে আসছিলেন ট্রাম্প। তাকে ‘কমিউনিস্ট’ ও ‘জিহাদি’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, ইসরায়েলপন্থি লবিং গোষ্ঠী আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (আইপ্যাক) তাদের সুপার প্যাক ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্টের মাধ্যমে প্রাথমিক বাছাইপর্বে আল-সাঈদকে ঠেকাতে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। একক কোনো নির্বাচনি লড়াইয়ে এটি রেকর্ড পরিমাণ ব্যয়।
বিজ্ঞাপন ব্যয় পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই সাধারণ নির্বাচনে বিজ্ঞাপন প্রচারে দুই দল মিলে ২২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে।
