ইতালিতে কর্মী নিয়োগের জন্য নেওয়া বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রকল্পের পুরো খরচ বহন করবে সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান। এ প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষণার্থীদের কোনো অর্থ দিতে হবে না। এমনকি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্থতাকারী বা রিক্রুটিং এজেন্সিরও ভূমিকা থাকবে না। মধ্যস্থতার জন্য কেউ অর্থ দিলে তাকে ভিসা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ল্যাঙ্গুয়েজ, সিভিক অ্যান্ড প্রফেশনাল ট্রেনিং ফর স্কিলড মাইগ্রেশন টু ইতালি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, ইতালির অভিবাসন আইনের ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদের (আর্টিকেল ২৩) আওতায় নেওয়া প্রশিক্ষণ প্রকল্পগুলো নিয়োগদাতাদের চাহিদার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। ইতালির যেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মী প্রয়োজন, তারাই প্রথমে কর্মীর চাহিদা জানাবে। এরপর সেই চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ প্রকল্প তৈরি, প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রশিক্ষণে ইতালীয় ভাষা, দেশটির সংস্কৃতি ও নাগরিক জীবন সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট খাতের কারিগরি দক্ষতা শেখানো হবে। প্রতিটি প্রকল্প যাচাই-বাছাই শেষে ইতালির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বাধীন আন্তমন্ত্রণালয় কমিটির অনুমোদন পেতে হবে।
আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, এসব প্রকল্পের অর্থায়ন সম্পূর্ণভাবে ইতালির নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিগুলো করবে। প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হবে না। তবে ঢাকার বাইরে থেকে আসা প্রশিক্ষণার্থীদের আবাসনসহ কিছু আনুষঙ্গিক খরচ হতে পারে।
তিনি বলেন, আর্টিকেল ২৩-এর আওতায় কর্মী নিয়োগে কোনো মধ্যস্থতাকারীর সুযোগ নেই। এ প্রক্রিয়ায় রিক্রুটিং এজেন্সির কোনো ভূমিকা থাকবে না। এমনকি এ ধরনের এজেন্সিকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণও জানানো হয়নি। কোনো প্রশিক্ষণার্থী মধ্যস্থতার জন্য অর্থ দিয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে ভিসা দেওয়া হবে না।
ইতালীয় ভাষা শেখার গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, শুধু ইতালিতে যাওয়ার জন্য নয়, দেশটিতে কর্মজীবন ও সামাজিক জীবনে মানিয়ে নিতেও ভাষা শেখা জরুরি। ভাষা জানা থাকলে কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়ে, ভালো বেতনের সুযোগ তৈরি হয় এবং কর্মীরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানতে ও তা রক্ষা করতে পারেন। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ইতালির সংস্কৃতি বোঝাও সহজ হয়।
রাষ্ট্রদূত জানান, ইতালিতে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইতালীয় নাগরিক বসবাস করছেন। তাঁদের অনেকেরই দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। ২০২৫ সালে ইতালি থেকে বাংলাদেশে ১৭০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
তবে আর্টিকেল ২৩-এর আওতায় ইতালি যাওয়ার সুযোগ খুব বেশি নয় বলে জানান তিনি। এ প্রক্রিয়ায় কয়েক শ থেকে কয়েক হাজার কর্মী যেতে পারেন। তবে এর চেয়ে বেশি কর্মী যাওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, ইতালির শ্রমবাজারে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একই দেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রেও সীমা নির্ধারিত আছে।
প্রশিক্ষণে নির্বাচিত না হলে অর্থ খরচ করে অন্য কোনো পথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা না করার পরামর্শ দেন আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। তিনি বলেন, ভুয়া প্রতিশ্রুতি ও কর্মসংস্থানের প্রলোভন থেকে সতর্ক থাকতে হবে। সুযোগ না পেলে পরবর্তী সুযোগের জন্য অপেক্ষা করা অথবা দেশে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা অর্থ ও জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
ইতালির রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তির ফলে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশ কিংবা সেখানে অবস্থান করা আগের চেয়ে কঠিন হবে। তাই বৈধ অভিবাসনের সুযোগ কাজে লাগানোর পাশাপাশি প্রতারণার ফাঁদ এড়িয়ে চলতে হবে।
